অফুরন্ত ভালবাসা

তীর্যক রহমান

প্রথম দিন।তোমার মনে আছে?তুমি দোতালা বাড়ির দক্ষিন মুখি বারান্দায় লাল পারের ওরনা জড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিলে।শরতের মাঝামাঝি সময়।তোমার খোলা চুল ছড়িয়ে পরে ছিল পুরো বারান্দা ময়।তোমায় আমি সে দিনই প্রথম দেখে ছিলাম।দেখে ছিলাম তোমার উরো চুল গুলো।শরতে প্রচন্ড বাতাসে তুমি তোমার চুল গুলো সামলে নেয়ার চেষ্টা করেছিলে।চেষ্টা করেছিলে কাপর সামলে নেয়ার।যা ঐ দুরন্ত বাতাস তোমার সাথে খেলা করছিল।হয়ে পরে ছিলে বেসামাল।

    তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে আর তোমার চুল ছিল কোমর বরাবর।এখনো তাই আছে।যা দেখে যে কোন যুবকের হ্রদয় কেরে নেয়ার জন্য যতেষ্ট।তুমি খোপা বাধলে।খুলে গেল।আবার বাধলে, আবার খুলে গেল।অবশেষে এক প্রকার যোর করে বেধে নিলে মাথার পেছনে।আমার চোখ আটকে যাচ্ছিল।চোখ আটকে যাচ্ছিল তোমার অপরুপ দৃষ্টি দেখে।চোখে ছিল না কোন মাসকারা।ছিলনা কোন বারতি সাজ।তবুও দেখতে ভাল লাগ ছিল।তোমার আনমনা মুচকি হাসি আমার হ্রদয়ে দোলা লাগছিল একটু একটু করে।

    সামান্য সময় পর তোমার ছোট বোন এসে পাশে দাড়ালো।তোমার ঘোড় কাটলো।তুমি অন্তরঙ্গ ভাবে কি নিয়ে যেন কথা বলছিলে আর হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে কি যেন দেখাচ্ছিলে।আমি চেয়েই রইলাম তোমার চোখ এবং মুখ বরাবর।তোমার দৃষ্টি তখনো আমার প্রতি পরেনি।

    মনে আছে? সে দিন আকাশে ছিলনা কোন কালো মেধ।ছোট ছোট সাদা মেঘ খেলা করছিল দুরন্ত গতিতে।তুমি দেখলে ঝকঝকে আকাশে দুরন্ত গতিতে একটি ঘুরি উরছে।বারবার সেটা ওঠা নামা করছিল।মনে হচ্ছিল এই বুঝি পরে গেল আবার ঠিক তখনই সেটি উঠে দাঁড়িয়ে গেল যেভাবে ঘুরি ওরে।কে ঘুরি ওরাচ্ছে খোজার চেষ্টা করলে।আমি তাই চেষ্টা করলাম।খুজে তুমিও পেলেনা আমিও পেলাম না।একই জায়গা থেকে আর একটি ঘুরি উরলো।এটা আরো বড় এবং রঙ্গীন।তুমি বেশ আনন্দ পাচ্ছিলে তা দেখে এবং তোমার বোনকে দেখাচ্চিলে।আমি এমনটা দেখে মুচকি হেসে ছিলাম।

    মনে আছে এরপর তুমি ছুটে গেলে ছাদে ঘুরির মালিককে খুজতে।পুরো ছাঁদ ভরে গেল তোমার উপস্তিতিতে।আলোময় ঝরনা ছড়িয়ে পরলো অনেক দূর পর্যন্দ।এবার আমি তোমায় পুরো পুরি দেখলাম।দেখলাম তুমি সারে পাচ ফিটের মত লম্বা।তোমার পরনে নাল রঙ্গের পাজামা ঠিক ওরনার আচলের সাথে মিলিয়ে।শরিরে ছেলোয়ার কামিজ জরিয়ে ডেকে রেখেছ।চিকন এবং লম্বা হওয়া সত্ত্যেও খারাপ লাহছে না।মনে হচ্ছে, নাহ! ঠিকই তো আছে।নায়িকারা এমনই হয়।

    পশ্চিম আকাশে সুর্যের আলো তখনো ডের রয়ে গেছে।বিকেলের হালকা আলোয় তোমার পুরো দেহ ঝ্বলঝ্বল করছিল।সন্ধে নামার আগ পর্যন্ত সেখানেই ছিলে।

    বসে পরার আগে হাটলে পুরো ছাদে।দৌ্রালে।মাঝে মাঝে মত্ত হলে ছোট বোনের সাথে খেলায়।আমার মনে হচ্ছে তোমার এতো বেশি ছোটা ছুটি তোমার ঠিক হচ্ছে না।যে কোন সময় পরে যতে পারো।যতবার তুমি ছাদের কীনারায় যাচ্ছিলে তত বার মনের মধ্য খোচা মার ছিল।মনে হচ্ছে এই বুঝি পরে পরে গেলে।ছাদের কোন রেলিং নেই।মনে হচ্ছে আমি দৌ্রে ছাদে চলে যাই এবং তোমায় বলি এভাবে না করতে।অথবা তোমায় উদ্ধার করে সগর্ভে বির সেনার মত ফিরে আসি।আমার নিষেধের প্রতি উত্তর করলে বলতাম তোমার এই দুরন্তপনা কাউকে কাউকে কষ্ট দিচ্ছে তা কি তুমি বোঝ? তুমি হয়তো নিষেধ শুনতে না।আমি ছাদেই থেকে যেতাম ছাদের বান্ডুরি হয়ে এবং থাকতাম যতক্ষন না তুমি নিচে নেমে আসো।

    মনে আছে?সামান্য ছোটা ছুটির পরে আমাদের দিকে ফিরে তাকালে।ফিরে তাকালে তোমার বাড়ির সামনের সু-বিশাল মাঠটার দিকে।

    তোমার বাড়ির সামনে একটি রাস্তা আর রাস্তার পরে মাঠ।মাঠটা বেশ বর।চার কৌনা।তৈরি কর হয়েছিল ফুটবল খেলার জন্য।বাড়ির সামনে একটা বকুল গাছ।খুব বড় নয়।একটা পাশ হালকা নিচু।একে বারে মাঝ বরাবর ছিল তুলনা মুলক উচু।বৃষ্টি হলে নিমিষেই পানি গড়িয়ে যেতে পারে অন্য কোথাও।তবু ক্রীকেট খেলা যায় না তাতে।ছোট ছোট ঘাসের সবুজ আভা পুরো মাঠ যুরে।মাঠ পার হলেই সুবিশাল আম গাছ এবং তার পাশে ছোট আকারের একটা শহিদ মিনার।আমি যেথানেই দাঁড়িয়ে।তার পেছনে স্কুল।গাছের হালকা ছায়া শহিদ মিনারের সিরির উপর পরছিল।বাকি দু দিকের এক দিকে প্রচুর গাছ।বাগানের মত।মনে হয় গাছ দিয়ে দেয়াল নির্মান করা হয়েছে।বাগান পার হলে কলেজ।বাকি দিকটায় ছোট আকারের প্রাইমারি।কিছু গাছ।আর একটা টং দোকান।

    এরপর তুমি বসে পরলে একেবার পদ্মাশন হয়ে।পাশে বসলো তোমার ছোট বোনটি।এবার তুমি ঘুড়ির কথা একদম ভুলে গেলে।মনযোক বারলো আমাদের পান্ডো গুলোর দিকে।আমি বসে পরলাম শহীদ মিনারে উঠতে যে সিরি তার উপর।তোমার দোতলা বাড়িটা আমি যেথায় বসে আছি তা থেকে প্রায় সত্তুর গজের মত প্রস্থ।আমাদের দল তখনো ভারি হয় নি।অপেক্ষায় রইলাম।সকলে আসবে বলে।দুরত্ব যাই হোক তুমি ঠিক আমার মুক্ষ মুখি অবস্থানে।দুর অবস্থান থেকে অস্পস্ট দেখছিলাম তুমি মিষ্টি করে হাসছো।আমাদের প্রত্যেকের সাথে ক্রীকেট খেলার সামগ্রী।কারো হাতে ব্যট, কারো হাতে বল, কারো হাতে স্টাম্প।

    মাঠটা কবে তৈরি হয়ে ছিল আমি তা জানতাম না।শুনেছি মাত্র।প্রত্যেক স্কুল মাঠে থাকা প্রয়োজন তাই ছিল।তৈরি হয়েছিল আমার জন্মের বেশ আগে।যখন ফুট বুলের রমরমা অবস্থা।ক্রীকেটের ভীরে ফুট বল মরতে বসেছে বলা যায়।আগের মত এই খেলার প্রতি কার তেমন আগ্রহ নেই।ফুটবল নিয়ে এদেশের মানুষ খুব বেশি আর সপ্ন দেখতে চায় না।যতোটা দেখে ক্রীকেট ঘীরে।দেশের জন্য অনেক বেশি সম্ভাবনা ময়।ভাল খেললে জাতীয় দলে চাঞ্ছ পাওয়া সহজ।এবং নিয়মিত আন্তজার্তিক পযায় খেলা যায়।তখন সারাপ্রতিবীর মানুষ চেনে।যা ফুটবল দিয়ে আপাতত সম্ভব নয়।

    একে একে আমাদের লোক সংখ্যা বারছে।তোমার কৌতহলী চোখ আমাদের পানে।মনে হল ক্রীকেটের প্রতি তোমার আগ্রহ আছে।মনে হল তুমি আমাদের খেলা আরাম্ব হওয়ার অপেক্ষায় আছো।তুমি বসেই রইলে।আমি মাঝে মাঝে আর চোখে তাকাচ্ছিলাম।এতো দূর থেকে আমার চোখ এবং তোমার চোখ একই সরল রেখায় একত্রিত হওয়া সম্ভব ছিল না।

    সুর্যে তেজ কমে এসেছে বেশ।মোট বিশ পান্ডো একত্রিত হয়েছি।খেলতে হলে আরো দুজন প্রয়োজন।কিন্তু আসার কোন সম্ভাবনা দেখলাম না।তাই এই বিশ জনকে দুটি অংশে ভাগ করে দিলাম।পুরো প্রক্রিয়াটি আমাকেই শেষ করতে হয়েছে।তা তুমি দেখলে।আমি ঠিক করছিলাম কে কোন দলে খেলবে আর মাঝে মাঝে আমার বেয়ারা চোখ তোমার প্রতি লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছিল।দুটি দল হল।একটি দলের নেত্রিত্ব আমার উপর।এমন কি পুরো বিশ জনের দ্বায়িত্বও আমার।কারন আমিই এদের মধ্য সবার বড়।বাকি দলটির আপাতত ভার গেল আমারই ঘনিষ্ট এক জনের উপর।

    দেখলাম, কে একজন ছাদে চলে এলো বেশ মেজাজি চেহারা করে।মুখ গম্ভির করে সে তোমাকে কি যে বলল।তোমার মুখটা দেখলাম ভার হয়ে গেল।তুমি তাকে কি যেন বুঝাতে চাইলে।পরে বুঝলাম উনি ছিলেন তোমার মা।হয়তো সারা বাড়ি তোমায় খুজে ছিল।অবশেষে ছাদে পেয়ে রাগ কিছুটা ঝারল।এরপর তিনি চলে গেলেন।তুমি আবার আমাদের খেলার প্রতি মনযোগী হলে।টচ হল।আমি জিতলাম।এবং তা অবিশাস্য।জানো সেদিনই আমি প্রথন কোন টস জিতলাম।মনে হল তোমায় দেখার পর থেকে ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে।বদলেছেও অনেক।

    সে দিনের ম্যসটা হয়ে ছিলা বারো ওভাবের।আমার ঠিক মনে আছে।আমি আমাদের দলের আমাদের দুজন ব্যটস ম্যান মাঠে পাটিয়ে দিয়ে আবার বসে রইলাম সেখানে।আজই প্রথম আমি ওপেন করিনি।প্রথম ওভারের শেষ বলে আমাদের উইকেট পরলো।তুমি উল্লসিত হলে।আমার কষ্ট লাগলো।মনে হল এ মুহুর্তে তুমি আমার বিপক্ষে।এরপর আর একজন ব্যটস ম্যান পাঠালাম।আমি বসেই রলাম।আমার চোখ সেই বরাবর যেখানে তুমি বসে আছো।আমার খেলার প্রতি কোন মন জোগ নেই।শুধু চেয়েই আছি, চেয়েই আছি।

    দ্বিতীয় ব্যটস ম্যন নেমেই চার মেরে দিলে।এবারও তুমি উল্লসিত।তা দেখে আমার ভাল লাগলো।তুমি হাততালি দিচ্ছিলে।সেই উইকেট যুটি ভাংতে প্রতি পক্ষ দলের বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে।তারা খেলে গেল সাত ওভার।যখন দ্বিতীয় উইকেট পরলো তখন আমাদের স্কর দুই উইকেটে সাতান্ন।এবার আমার নামার পালা।ইতস্তত হচ্চিল।মনে হচ্ছিল আজ কি না নামলেই নয়? মনে হচ্ছিল যদি শুন্য রানে আউট হয়ে যাই কি লজ্জাই না পাবো।কি আর করা যাবে।নামতেই যে হবে।হাতে ব্যাট।মনে হচ্ছে এই মুহুর্তে শরিরে কোন শক্তি নেই।একেবারে হাওয়ায় ভাসছি।প্রথমেই ছোট একটা ইটের সাথে হোচট খেলাম।অন্য সময় হলে কি হত জানিনা তবে আমি পরে গেলাম একেবারে মাটিতে। ধপাস করে।আমার পীঠ উপরে আর বুক নিচের দিকে।এরপরও এক পলক চেয়ে দেখলাম তোমায়।আমার  মুখে তখনো হাসি।কোন ব্যথা অনুভব হচ্ছে না।হাসি মুখে উঠে দাড়ালাম আর তখনই টের পেলেলাম শরিরের কোণ একটা অংশ বেশ যখম হয়েছে।তারপরও এগুতে লাগলাম সামনের দিকে।যেন পেছন ফেরার অবকাশ নেই।সত্যি বলছি তখনো শরিরে কোন শক্তি পাচ্ছিলাম না।তবুও গিয়ে দাড়ালাম উকেটের সামনে।এবার তুমি আমায় ভাল করে দেখলে।ব্যাথায় শরির টনটন করছে।প্রথম বলটা শরিসা ফুল দেখে ঠেমালাম কোন মতে।পরের বল চলে গেল উইকেটের বেশ বাইরে দিয়ে তারপরও যেভাবে ব্যট চালালাম তাতে মনে হয়েছিল উইকেট বরাবর এলে কিনা হত?পরের বল আর টিকতে পারলাম না।দেখলাম তুমি উত্যজিত দর্শকের মত মুখে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলে।চোখে মুখে বিসাধের ছাপ।বুঝলাম এটা তুমি আশা করনি।কষ্ট পেয়েছ।আমারুও কষ্ট লাগছে।ব্যাথার জন্য নয়, উইকেট পরার জন্য  নয়।খেলতে পারলাম না সে জন্য নয়।লজ্জা পেয়েছি সে জন্য নয়।শুন্য হাতে ফিরতে হবে সে জন্য নয়।তোমার বারাক্রান্ত চেহারা দেখে।আমি ভাবতেও পারিনি তুমি এতোটা কষ্ট পাবে।জানো সে দিন তোমার থেকে আমারই বেশি কষ্ট লেগেছিল তুমি হতাশ হয়েছো বলে।আবার সেই নির্ধারিত জায়গায় গিয়ে বসলাম।তোমার কষ্ট লাগা আমার ভাল লাগেনি।সে মুহুর্তে সিদ্ধান্ত নিলাম আরো ভাল ভাবে শিখতে হবে।আরো ভাল ভাবে খেলতে হবে।

 

    সময় গড়িয়ে যাচ্ছে।বিশন্ন চেহারায় বসে রইলাম ইনিংস শেষ হওয়ার অপেক্ষায়।একটু খুশি হলাম যখন দেখি আমাসের স্কর একশর উপরে।সে দিনের স্কর আমি আজও মনে রেখেছি যান? রান হয়ে ছিল একশত সোল।এবার ফিল্ডিং করার পালা।দাড়িয়ে পরলাম সবাই।আমি উঠুতে গিয়ে উনুভব করলাম শরির টনটন করছে।ব্যাথা বোধ ভালই লেগেছে।তবু এগিয়ে গেলাম মাঠের দিকে।কেন জেন তোমার দিকে দিকে তাকাতে পারছিলাম না।তারপরোও লুকিয়ে দেখে নিলাম একবার।

 

    দেখে নিলাম তুমি তেমনি দাঁড়িয়ে আছো।আমি দাড়ালাম তোমাদের বাড়িটা সামনে রেখে।যাতে মাঝে মাঝে তোমার অনুভুতি লক্ষ করা যায়।প্রথম ওভারে কোন উইকেট পরলো না।বলিং করতে গেলাম আমি নিজেই।পরপর দুটি বল ওয়াড করার পরে বল সঠিক হল।হাপ ছেরে বাচলাম।তখনো কেন যেন শরিরে শক্তি পাচ্ছিলাম না।আমি সাধারনত যে গতিতে বল করি তা আজ হছিনা একদমই।পরের বল আবার ওয়াইট।আবার লাইন ছারা।ওভার শেষহল মোট দশ বল করার পর।আর বলিঙ্গয়ে গেলাম না।ফিল্ডিংএ চলে এলাম সেই যায়গায়।ব্যাথাটা এখনো আছে।নড়তে একটু কষ্ট হচ্ছিল।সুজকটা কাজে লাগালো একটি বল।প্রচন্ড গতিতে চলে গেল হাতের পাশ দিয়ে।এতো কিছুর পরও জিতে ছিলাম আমরা।

    যখন সন্ধ্যা ছুই ছুই তখন আমাদের খেলা শেষ হয়।অন্যান্য দিন খেলা শেষে সাথে সাথেই রওয়ানা হই বাড়ির উদ্দেশ্যে।আজ কেন যেন যেতে ইচ্ছে করছিল না।দেখালাম তুমিও দাঁড়িয়ে আছো।আপছা আলোয় যতক্ষন তোমায় দেখা যাচ্ছিল ততক্ষন মনের মধ্য একটা শিতল দির্ঘস্বাস এপিট ওপিট করছিল।আমি আজ আর যেতাম না যদি না তোমার মা এসে তোমায় নামিয়ে না নিয়ে যেত।

 

    পর দিন আমি আমার অন্যান্ন্য কাজবাদ দিয়ে চলে এলাম সেই কলাজ মাঠে।এক পরিচিত ছেলের সাথে আলাপ করে যানতে পারি তোমার বাবা সদ্য ট্রাঞ্ছফার হয়ে আমাদের সরকারি কলেজে এসেছে।তোমার বাবাকে তখনো আমি চিনি না।দেখার আগ্রহ সামলাতে পারলাম না।এগিয়ে গেলাম কলেজের দিকে।

    আমি যদিও এ কলেজ থেকেই পাশ করে ভর্তি হয়েছিলাম একটু দূরে ডিগ্রি কলেজে।যেতে যেতে ভাবছিলা মাত্র ক বছর আগেও ছিলাম এ কলেজের ছাত্র।তোমার বাবা ছারা বাকি সব স্যারাই আমাকে চেনে এবং বেশ পছন্দ করে একজন ভাল ক্রিকেটার হিসেবে।সে সময় কতনা মজার ছিল।নিয়মিত বিকেলে খেলতাম বন্ধুদের সাথে।গুড়ি ওরাতাম আকাশে, গতকাল যে ভাবে উড়িয়েছে অন্য কোন মানুষ।তখন আমার বন্ধু ছিল প্রচুর।নিয়মিত আড্ডা হত এই শহিদ মিনারের বেড়িতে।তখন বারিতে ফিরতাম বেশ রাত করে।একটু দূরে যে চায়ের টং দোকানটা আছে সেটি খোলা রাখা হত আমাদের জন্যই যতক্ষন না আমরা বিদায় নিতাম।সেই সব বন্ধড়া এখন ঢাকায়।কেউ এখনো পরা শুনা করছে, কেউ চাকরি করছে, কেউ চাকড়ি খুচ্ছে।আমি অধম ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়ে ফেসে গেলাম।ঢাতে আর যাওয়া হলনা।

    কেন ঢাকা যাই নি যানো? জানবে কি করে তোমার সাথে তো বলাই হয়নি।আমি মাকে খুব বালবাসি।কত বেশি ভাল বাসি বলতে পারবো না।মাকে ছেরে আমি কোথাও যানি।দুরে কোথাও গিয়ে সান্তি পাবনা এটা নিশ্চিত ছিল।মনে হত দূরে গেলে মাকে দেখতে পাবো না।এক মুহুর্ত মাকে না দেখে আমি থাকবো কি কিরে।যে খানেই যাই না কেন ফিরে এসে মায়ের মুখ দেখার পরে ভুলে যাই সব কিছু।বুলে যাই কিছুক্ষন আগেও যদি কারো সাথে প্রচুর বিদ্দেশ থাকে।তখনো মা মাঝে মাঝে খাইয়ে দিত।এখনো দেয় যখন মায়ের কাছে ফিরে যাই।ভাবতাম দূরে গেলে কে আমাকে এতো আদর করে মুখ ভাত তুলে দিবে।কে বেড়ে দিবে প্লেটের উপর খাবার? তাই রয়ে গেলাম মায়ের আচোলের তলায়।মা এখনো তেমনি বালবাসে।একবাপের দিতীয় সন্তান আমি।তাই ভালবাসাটা একটু বেশি।তাও আবার আমিই বড়।

    ছোট যে বোনটা আছে তার সাথে তখনো একটা বিষয় ছারা সব কিছুতে মিল খেত।সে আমার ফেলা পছন্দ করতে একদমই।বলতো তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।এভাবে ফেললে কোন ভবিৎত নেই।যদিও সে কথা গুলো বলতো না বুঝে।কারন তখনো সে ক্রীকেট খেলা তেমন ভাল বোঝে না।আমি পাত্তা দেই না।সে বোনটাকে আজও তুমি দেখনি।মিষ্টি চেহারা।অন্তত আমার কাছে।বছর খানিক হয় বিয়ে    দিয়ে দিয়েছি ধুম ধাম করে।অতনেক মানুষ এসেছিল সে বিয়েতে।এসেছিল অনেক নামি দামি ব্যক্তিরা।

    আমার বাবাকে বোধ হয় চিনতে।তিনি ছিলেন কলেজেরই ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।যদিও বাবা নিয়মিত আসতেনা।বাবা তার ব্যাবসা নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতেন।বাজারে যে বড় চালের আরোদ ছিল সেটি আমাদেরি।আমার কখন সে খানে বসা হত না।ব্যাসা বানিজ্য তখনো বুঝতাম না, এখনও বুঝি না।খেলাটাই আমার সাথে মানায়।জান? বাবাকে তখনো যেমন ভয় পেতাম এখনো তেমনি ভয় পাই।

    ভাবতে ভাবতে এগিয়ে চললাম।প্রথমে আমাদের ফিজিক্সের স্যারের সাথে দেখা।যখন কলেজে পরতাম ওনার ভয়ে আমি একবার স্কুলে আসা বন্ধ করেছিলাম।স্যার কখনো মারেন নি।তবে ওনার চোখের মধ্য কি আছে আমার জানা নেই।যে কোন ছেলেকেই কব্জা করে ফেলতে পারেন চাহনি দিয়ে।অবষেশে বিচার যায় আমার বাবার কাছে যে আমি বেশ কদিন ধরে ক্লাসে যাচ্ছি না।অবষেশে বাবা এক দিন সবার সামনে কান ধরে নিয়ে গিয়েছিল কলেজে।এমন তরুন বয়সে কান ধরে কলেজে নেয়াটা বেশ বাজে ব্যাপার তাই না!কি করা যাবে যেহেতু বাবাকে ভয় পাই তাই বাধ্য হয়েই সব মেনে নিতে হয়ে ছিল।স্যার আমার দিকে হেসে বলল, কিরে বাছা খেলা-দুলা নিয়েই আছিস? আমি বলি, না স্যার।ডিগ্রী শেষ করেছি।কিছু একটা করবো ভাবছি।স্যার বলেছিল, তাই চেষ্টা কর।এতো খেলা করে কি হবে।এভাবে জীবন নষ্ট করলে পরে পস্তাবে বলছি।আমি মুচকি হেসে বলি, দেখা যাক কি করা যায়।স্যারকে আর কিছু বলি নি।

আর একটু এগিয়ে যেতে বাংলা স্যারের সাথে দেখা।স্যাকে আমার বরাবরই ভাল লাগে।স্যার যখন বাংলা পরান আর যদি তা কোন উপন্যাস হয় তো কথাই নেই।নিজে অভিনয় করে বুঝিয়ে দিতেন প্রতিটা চরিত্র।কোন চরিত্র বুঝতে না পারলে স্যারের উপস্তাপনায় বুঝে যেতাম এক নিমিশেই।স্যার বাংলা উচ্চরন করেন বেশ সাবলিল ভাষায়।তাতেই বোঝা যায় উনিই বাংলার টিচার।ওনার অসাধারন ব্যাবহার ভুলিয়ে দিতে পারে যেকোন দুঃখ।স্যারকেই বললাম আমাদের কলেজে নাকি নতুন স্যার এসেছে? স্যার বলল, হ্যা এসছে।একটু দূরে কাচা পাকা চুলের একজন মানুষ দেখিয়ে বললেন, উনিই নতুন এসেছে।তোমার বাবার দিকে চোখ পরতে পিলে চমকালো।অদ্ভুৎ রাগি একটা চেহারা।এক নজর তাকিয়ে আর চোখ রাখতে পারলাম না।আমার মনে হল এমন বাবার ঘরে অমন মেয়ে জন্মায় কি ভাবে? যতটা স্বাভাবিক চেহারা আসা করে ছিলাম তেমনটা না হওয়ায় মনের মধ্য একটা দুঃখ দুঃখ ভাব নিয়ে বেড়িয়ে এলাম সেখান থেকে।আসতে পথে তোমার চেহারাই বার বার মনে পরছিল।কেন? তা জানি না।

    দুপুর হয়ে এলো।গোসল শেষ করে দেড়িয়ে পরলাম সব পান্ডাদের উদ্দেশ্য।আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছি আরো সকাল সকাল খেলা শুরু করতে হবে যাতে আরো বেশি সময় ধরে তোমায় দেখা যায়।কয়েক জন ছারা বাকি সবাই রাজি হয়ে গেল।সবাইকে জানাতে জানাতেই প্রায় তিনটে।সিদ্ধান্ত হয়েছে ঠিক সারে তিনটের সময় খেলা শুরু হবে।আমিই সবার আগে পৌছে গেলাম।আর কেউ আসেনি আপতত।এই তপ্ত রোদের মধ্যও বসে রইলাম শহিদ মীনারে বেরিতে সেই বারান্দাটার মুখ চেয়ে।গাছটার ছায়া এসে পৌছে নি।অপেক্ষায় আছি তুমি আসবে।এলেনা।আমার চোখ তবু নরে না।চোখে সেখানেই আছে।অপলক দৃশঠি সেখান বরাবর।তুমি এলে না।একে একে আসতে শুরু করেছে সবাই।ওরা যর হওয়ার পর একটা হৈ-চৈ শুরু হইয়ে গেল।সে শব্দ তোমার কান এরোলোনা না।

    দেখলাম সেই হাসি মুখে এগিয়ে এলে সেই বারান্দায়।পরনে কালো রংএর ফ্রক।এতে তোমায় অনেক বেশি কিশোরী লাগছিল।যা তোমাকে মানায় না।তবুও লাগছিল অন্যরকম।সূর্যের রশ্মি পরছিল বারান্দার একটি অংশে যা তোমাকে হালকা স্পর্শ করছিল।রোদে কাল রং আরো ঝমকালো লাগছিল।তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে রেলিং এর উপর ভর করে অনেক বেশি যুকে।যা দেখে আমার ভয় হচ্ছিল।

    এতো রোদে খেলা শুরু করা যাচ্ছিল না।বসে রইলাম।শুরু হল গল্প।একজন বলল, রোদে না বসে সেই আম গাছটার নিচে বসতে।এদের মধ্য আমি সিনিয়র।তারা সবাই আমাকে ভাই ভাই করে ডাকে।তাই যা কিছু বলি একটু চিন্তা করে, হিসেব করে বলতে হয়।বললাম, প্রস্থাবটা মন্দ নয়।নিজে প্রেম জ্বরে ভুগতে পারি, উন্য কাউকে ভোগানো উচিত হবে? আমি যতটাই বেখেয়ালি হই না কেন এটি ঠিক বুঝতে পারছি।য়ামার সাথে থাকা কারো চোখ তোমার দিকে পরেনি তাই কিছুটা সস্থিতে আছি।ওরা গল্প করেই যাচ্ছে।আমি তোমার দিকে চেয়ে শুয়ে পরলাম একটা ছোট ভাইয়ের কোলের উপর।তারা যা নিয়ে কথা বলছে তাতে আমার তেমন মন নেই।আমার পুর মনযোক তোমার উপর।কিভাবে কি করছো? কোন দিকে তাকাচ্ছো।চোখ কি বলছে।দেখলাম তুমি কিছূটা বিরক্ত আমরা খেলা শুরু করছি না বলে।তোমি তখন একদমই বোঝনি এতো খর তাপে খেলা করা যায় না।

    খেলা শুরু হল ঘন্টা খানিক পরে।আজও টচে জিতলাম।গত কালের মত আজও অবাক।টচে জিতার সাথে সাথে এক নজর দেখে নিলাম তোমায়।পরপর দুদিন অধিনাকত্ব করায় আজ তোমার নজরে এলাম ভাল ভাবে।সিদ্ধান্ত নিলাম ফিল্ডিং করার।দাড়ালাম তোমার বারান্দার ঠিক কাছা কাছি।যখন বারান্দার দিক এগিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তোমার চোখ আমার চোখ একই সরল রেখায় একত্রিত হয়েছে সামান্য সময়ের জন্য।তোমার মুখ ভঙ্গি দেখে আনমনে হেসে ছিলাম।অদ্ভুত করে মুখটাকে বাকালে।কেউ দেখে নি।আচ্ছা সে দিন প্রথম চোখে চোখ পরায় নিশ্চয়ী লজ্জা পেয়ে ছিলে? তার জন্যই বোধ হয় এমন করলে? আমিও কিন্তু কম নয়।তারপর মুখ ফিরিয়ে অন্য দিকে তাকালে।আমি আর বিরক্ত করার চেষ্টা করিনি।দারালাম বকুল গাছটার ছায়ায়।হয়তো অনেকে ভেবেছিল আমি সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছি।আসলে কিন্তু তা নয়।শুধুই তোমার জন্য এই স্বার্থপরততা।

    খেলা শুরু হল।আজ বোধ হয় আর বল করতে পারবো না।গত কালের ব্যথাটা জেকে বসেছে।শরির কতটা ব্যথা হয়ে আছে আগে বুঝিনি।যখন খালি হাতে যাম্প করে একটা বল করলাম তখন টের পেলাম শিরদার কত নাজুক হয়ে আছে।গোমরা মুক্ষ করে দাঁড়িয়ে রইলাম।বলিং এ পাঠালাম অন্য একজকে।যে কিনা আমাদের মধ্য সব চেয়ে দ্রত বল করে।ঘোমরা মুখ হওয়ার কারন আমি তোমায় দেখতে পাচ্ছিলাম না।কারন তোমার বারান্দা আমার পেছনে।তাকাতে হলে পুরো শরির, মুখ ঘুড়িয়ে তাকাতে হবে।আমার লজ্জা বোধের কারনে যা পারছিলাম না।তাছারা তোমার ওদিকে সুন্দর একটা মুখ ছারা কৌতহলি হইয়ে বারবার দেখার মত কিছুই নেই।ভুলক্রমে একবার তাকানো যায়।এর বেশি তো আর নয়।ফিরতে যাচ্ছি আর কিসে যেন মনের মধ্য বাধা দিচ্ছে।যত বার প্রান পন চেষ্টা করে যাচ্ছি তত কোন একটা অদৃশ্য শক্তি আমায় ফিরিয়ে নিচ্ছে।অবশেষে তাকালাম।দেখি তুমি নেই।কিছুটা স্বস্থি কিছুটা হতাশ।স্বাস্থি কারন আপতত পেছনে তাকাতে আর কোন বাধা নেই।আতাশ তুমি নেই বলে।প্রথম দু-ওভারে উইকেট পরলো না।রান হল বিশের মত।ব্যাটারা আমার অমনযোগের সুজকে পিটিয়েছে বেশ করে।এবার আমার আর পিচুটান নেই।কারন অদৃশ্য মায়া জাল আমার পেছন থেকে সরে গেছে।আপতত মুক্তি।নতুন বলার পাঠালাম।প্রতিটা বল বলে দিলাম কি ভাবে করতে হবে।কোন যায়গায় ফেলতে হবে।ছেলেটা আমার কথা অনুসারে কাজ করতে পেরেছে।যার দরুন এক ওভারে মাত্র দু-রান দিয়েছে।আমার সাথে ইয়ার্কি।দু ওভারে বিশ রান!দেখাচ্ছি মজা।আবার নতুন বলার নিয়ে এলাম।প্রথম বল ঢট।পরের বলে উইকেট।প্রচন্ড যোরে সবার চিৎকার।জর হয়েছি মাঠের ঠিক মাঝখানে।দেখলাম আমাদের ধনি শুনে মুখে হাসি নিয়ে আবার এলে বারান্দায়।মনের মধ্য ছোট্ট একটা খোচা লেগে গেল।আবার কেমন যেন ইতস্তত লাগছে।আবার খেলার প্রতি খেল হারিয়ে ফেলছি কিনা ভেবে নিলাম।মন কে শক্ত করার বৃথা চেষ্টা চলল।আবার হেটে চললাম সেই জায়গার উদ্দেশ্যে।হাটতে হিয়ে আবার হোচট।এবার আর পরিনি।কোন মতে সামলে নিলাম নিজেকে।তবে সত্যিই শক্তি পাচ্ছিনা।মনে হচ্ছে গতকালের মত হাওয়ায় ভাসছি।আবার চোখে চোখ পরলো।দেখলাম সাথে সাথে তোমার মুখ বেশ গম্ভির হয়ে গেল।ভাবলাম আমাকে কি তোমার খারাপ লাগছে কি? তবে তোমার চোখ সরছে না আমার দিক থেকে।বুঝে নিলাম আমাকে খারাপ লাগলে এবাবে তাকিয়ে থাকতে না।এরপর আবার চোখ সরে গেল।একটু কষ্ট পেলাম।তবে হাল ছারি নি।আমি তাকিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি সে দিকে।য়ার একবার তুমি তাকিয়ে আবার মুখ আরো কালো করে চলে গেলে ভিতরে।এবার বুঝলাম আমাকে তোমার ভাল লাগে নি।

    আবার উইকেট পরার উল্লাস।তবে এবার তোমার পাত্তা নেই।আবার কষ্ট পেলাম।এবার আমি আশা করেছিলাম তুমি আসবে।আগের বার যেটা আশা করি নি।তারপরও তুমি এসেছিলে।একটু খারাপ লাগলো।খারাপ লাগলো আমার ভেহায়া পনার কথা ভেবে।এভাবে না করলেই বোধ হয় ভাল ছিল।অন্তত মাঝে মাঝে লুকিয়ে তোমায় দেখা যেত।তাদের ইনিংস শেষ হল।রান করতে পারলো একাশি।আমাদের ব্যাটিং করার পালা।গিয়ে বসলাম সে সহিদ মীনারে।সুর্যের তেজ কমে এসেছে।শরির বেশ ক্লান্ত।মনে হচ্ছে আজ আর ব্যাটিং করতে পারবো না।তার উপর এক মুহুর্ত যাকে দেখে ছিল চোখ সে এখন আর নেই।ব্যাটিংয়ে পাঠালাম দুজনকে।প্রথম বলেই চার মেরে দিল।একটা হৈ-চৈ রব ভেসে উঠল প্রচন্ড চিৎকারে।এবার তুমি এলে তবে মুখে সেই হাসি নেই।খুব আস্তে আস্তে করে ভিতর থেকে এসে দারালে আগের জায়গাতেই।দূর থেকে মনে হল এক নজর আমাকে দেখে নিলে।তারপর আবার চোখ ফিরিয়ে নিলে।তুমি আর সেখান থেকে নরলে না।অস্পস্ট দৃটিতে আমি চেয়েই আছি।

    আমার দল আজও যিতলো।আমার ব্যাট হাতে নামতে হয় নি।বেচে গেছি বলতে হয়।সির দ্বারে টান এখনো লাগছে।খেলা শেষ হল তবে সুর্য ডুবতে আরো কিছু সময় বাকি।পক্ষ এবং বি-পক্ষ উভয় দল মিলে বসলাম জরসর হয়ে গোল করে।ছোট খাট একটা মিটিং হবে।সবাই আমার মুখি।বলালম, কাল মাঠের এক কোনে নেট বসিয়ে প্রক্টিসের জায়গা তৈ্রি করতে হবে।যাতে সেখান নিয়মিত প্রক্টিস করা যায়ী।এভাবে খেললে কিছুই হবে না।আমাদের খেলায় প্রচুর ভুল আছে যেগুলো সংশোধন করা প্রোয়জন।ব্যাপারটাতে সবাই বেশ আগ্রহী হল।একজন বলল কোন দিকটায় করা যায়?আমি বলি, যে দিকটায় ছায়া আছে।তুমি তখনো দারিয়ে।আমার স্পষ্ট মনে আছে সে দিনের কথা।বাড়ি যেতে ইচ্ছে করছে না তবু সবার চাপা চাপি তাদের সাথে যেতে হল।

    পুরো দলটা ছুটছে সামনের দিকে।সবার মাঝে আমিই।কেন যেন কারো সাথি কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না।মৃদু পায়ে এগিয়ে যাচ্ছি।যে যার   যার মত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মজা করছে।আমার একদম তাতে মন নেই।পিচডালা রাস্তা।এ দিয়ে বড় কোন জান চলে না।মাঝে মাঝে দু-একটা রিক্সা চলে।।তোমার কথা ভাবতে ভাবতে কোত্থেকে রিক্ষা এসে দারালো ঠিক পায়ের সামনে।পেছন থেকে কে যেন একটা প্রচন্ড ধাক্কা দিয়ে সারিয়ে নিল সেখান থেকে।কপাল ভাল ঠিক সময়ে রিক্ষাওয়ালা ব্রেক কসেছিল।আমার বেগতিক চলা দেখে একজন বলল, কি ভাই, কোন সমস্যা? আমি বলি নাহ! ঠিক আছি।একে একে জন সংখ্যা কমতে থাকে।আমার বাড়ি এ পারার শেষ সিমানায়।প্রতিদিন সবশেষে একাই যেতে হয়।এই সময়টা আমার বরবরই খারাপ লাগে।আজ আরো বেশি লাগছে।নিজের কাছে সেই বেহায়াপনা কুকরে খাচ্ছে।মন বারবার বলছে এভাবে তুমি করলে কেন? মেয়েটা প্রচুর লজ্জা এবং কষ্ট পেয়েছে নিশ্চয়ি।কেন জেন মনকে বোঝাতে পারছিলা না।মনে মনে বলাম এটা আমার ইচ্ছে কৃত ছিল না।তার প্রতি আমি অতি মুগ্ধ হয়ে আনমনে অপলক দৃষ্টিতে পাকিয়ে ছিলাম মাত্র।আমার কো্ন দোষ নে, আমার কোন দোষ নেই।

    বাড়ির মধ্য এসে পুকুর ঘাটে বসলাম।এ পারার প্রতিটা বাড়িতে এমন একটি করে পুকুর আছে।কলেজ থেকে একটু দূরে আছে বিখ্যত জল পুকুর।আস পাহসের এলাকায় এর সুনাম রয়েছে।পুকুরটা আসলেই বেশ বড়।নাম অদ্ভুত হওয়ার পেছনে কারন, কেউ দাবি করে এটি তৈরি করে ছিল হিন্দু কোন জমিদ্বার, অনেকে দাবি করে কেটে ছিল মুশলিম কোন ধনাট্য ব্যাক্তি।একসম্য় এলাকার লোক জন মিলে পানি এবং জল উভয় মিলিয়ে নাম রাখে জলপানি।আমাদের পুকুরটা তেমন বড় নয়।ঘাট বাধানো।য়ার বৈঠক খানাও তেমনি।সেখানেই বসে আছি।সন্ধের আবছা আলোয়  পুকুরের পানিতে ডেউ খেলে যাচ্ছে।সেই ডেউয়ে আমি একটি ডিল ছুরলাম।নরে চরে ঊঠলো পুরো পুকুরের পানি।একটা ব্যং লাফিয়ে পরলো পানিতে।শুরু হল ডেউয়ের উপর ডেউ।মৃদু বাতাস বৈছে।এতো পথ ধরে হেটে আসার ক্লান্তি কিছুটা নিঃসরিত হচ্ছে ধীরে ধীরে।আমি বসেই রইলাম।অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে।পুকুরের পার ঘেসে লুকিয়ে থাকা ব্যঙ্গ চিল্লচ্ছে বেগতিক ভাবে।

    তোমার কথাই ভাবছি।ভাবছি তোমার সে মুখ বাকানোর ভঙ্গী।তোমার চলে যাওয়া আর বার বার ফীরে আসা।ভাবছি তোমার দৃষতি।যা স্রষ্টার নিপুন হাতে সৃষ্টি।তোমার অদৃশ্য ছায়া কেমন জেন মায়া তৈ্রি করে ফেলেছে।আমি বসেই আছি।বাতাসের বেগ বাড়ছে।শরির এখন বেশ চাঙ্গা।মন কিছুটা ভাঙ্গা।অন্ধোকার ছেয়ে আছে চারপাশ।পোকা মাকরের ডাক ঠিক ব্যনহের মতই বাজে লাগছে।অন্ধোকারে নিজের শরিরও দেখা যাচ্ছে না।আস পাশ নিরব নিশ্তব্দ।আমি বসেই আছি।বসে আছি অজানা একটা ঘোরের মধ্য।রাত কত হল জানা নেই।বাড়ির মধ্য থেকে গরুর উচ্চস্বরে হাম্বা ডাকে ঘোর কাটে।মোবাইলের আলো দিয়ে পথ এগুচ্ছি।এরপর খেয়ে দেয়ে শোয়া হয়।ঘুম আসে শেষ রাতে।ঘুমানর পূর্ব মুহুর্তে তোমার মুখটা বার বার ভেসে আসছিল।অনেক বার চেষ্টা করেছি সেটা সরাতে।সত্যি বলছি, পারিনি।

    পরদিন খুব সকালে আমি সহ আরো কয়েক জনকে নিয়ে বেড়িয়ে পরি জাল বাধার জন্য।বাশ গেরে খুটি বসালাম।এক ঘন্টার মত সময় লেগেছে।যতক্ষন সেখানে ছিলাম ততক্ষন অপেক্ষায় ছিলাম তোমার আসার।আশা করে ছিলাম এক পলক তোমায় দেখবো।তুমি এলে না।তুমি এলেনা সূর্যের মত রস্মি ছড়িয়ে আলো করে।বার বার তাকাচ্ছিলাম।তা সাথে থাকা ওদের চোখ এরোলনা।এবার ধরা পরেই গেলাম।তারা এবার ঝেকে ধরে ব্যাপারটা জানার জন্য।আমি বরাবরা অস্বিকার করছি।কিন্তু তারা ছারেনা।অবশেষে বলি, কাজ শেষে বলা যাবে।সে আশায় তারা দ্রত কাজ শেষ করে।সুর্যের আলো এখন ছড়িয়ে পরেছ বেশ করে।সবুজ পাতা চিক চিক করছে আলো প্রতিফলিত হয়ে।আমারা গিয়ে বসলাল আম গাছটার ছায়া তলে।

    এবার তাদের বলতে হল তোমাকে আমার ভাল লেগেছে।তারা প্রস্তাব করলো আমায় সাহায্য করতে চায়।আমি বলি, সাহায্য বলতে শুধু তথ্য জানালেই হবে।এর বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই।তারা এ নিয়ে আমার সাথে বেশ রসিকতা করলো।আমি তাদের বলে ছিলাম এটা যেন আর কেউ না জানে।তারা আমায় অভয় দেয়।এরপর শুরু হয় আমাদের প্রক্টিস।একজন বল করছে আমি ব্যট করছি।ব্যাথাটা আজও পাচ্ছিলাম।তবে পাত্তা দিলাম না।ব্যট চালিয়ে গেলাম চরমে।একজন এসে আমার ভুল ধড়িয়ে দিল।চেষ্টা করলাম তা শুধরে নেইয়ার।ব্যর্থ হলাম না।যত বার চেষ্টা করছি তত ভাল পারছি।ভাল লাগলো।আকাশে মেগ করেছে এই সাত সকালে।বৃষ্টি নামতে পারে যেন সময়।তবু হতাশ হই না।রোদের তাপ না থাকায় ভ্যবসা গরম লাগছিল না তাই প্রাক্টিস ভালই হচ্ছে।কখন যেন তোমার কথা ভুলে বসে আছি।যখন খেলা থেকে মনযোক নষ্ট হল তখনই তাকিয়ে দেখি তুমি দাঁড়িয়ে আছ বিশন্ন মুখ করে।মনে হল মাত্র ঘুম থেকে ওঠা হয়েছে।চোখ চুলকাচ্ছো বারবার করে।এতো বেলা পর্যন্ত ঘুমানর কি আছে।আমি তো এতো রাত করে ঘুমানোর পরেও খুব সকাল উঠে কত কি দেখলা।তুমি অন্রক কিছু মিচ করেছোট? একটা হাই তুলে চলে গেলে ভিতরে।মনে অনেক বেলা হয়েছে আর খেলা যায় না।ছেলে পেলেরা ক্লাসে আসতে শুরু করবে।স্যারা আসবে।এলাকা প্রতিদিনের মত মুখরিত হবে।এতো খেললে লোকে কি ভাববে? আমি যেহেতু এদের সবার বড়।বড়রা বলবে ছেলে গুলোর মাথা আমিই খাচ্ছি।তাই সময় থাকতে কেটে পরাই উচিত।

    প্রতি দিনের মত আজ বিকেলে আর খেলে হয় নি।প্রচন্ড বৃষ্টিতে পুরো মাঠ ভিজে কাদা হয়ে আছে।আমরা আশ্রয় নিয়েছিম স্কুলের বারান্ডায়।এখান থেকেও তোমার বারান্দা দেখা যায়।যখন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল তখন তুমি এবং তোমার বোন ভিজছিলে।সেকি আনন্দো!বলার বত নয়।তোমার মা এসে না ধমকালে বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত থামতে কিনা সন্দেহ ছিল।দেখতে যেমন ভাল লাগছিল ততটা খারাপ লাগছিল।খারাপ লাগছিল ঠান্ড লাগবে এই কথা ভেবে।অথবা জর আসতে পারে।দু-দিন জর হলে আম্মার হবে চার দিন।প্রথম দু-দিন তোমার সাথে আর পরের দু-দিন তোমায় দেখতে না পেয়ে।আর ভাল লাগছিল একটু কেমন যেন রোমান্টিকতা চলে আসছিল মনের মধ্য।ভাবছিলাম এই মুহুর্তে তোমার পাশে থাকতে পারলে কত না ভাল লাগতো।বৃষ্টি পানি হাতে জমিয়ে ধরে ছড়িয়ে দিতেম তোমার গায়ে।আবার তুমিও একই কাজ করতে।ছন্দে দুজন হাত ধরা ধড়ি করে নেচে উঠতাম আধিম তালে।যে নাচের কোন কোরিওগ্রাফার নেই।তার কোন ভাষা নেই।আছে শুধু অদ্ভুত ভালচলাগা।কখনো মনে হচ্ছে আমি সত্যি তোমার পাশে হাত ধরে দাঁড়িয়ে ভিজছি।আর বলছি চলনা হাড়িয়ে যাই দূরে কোথাও।যেখানে থাকবে না কোন ভয়।কোন বিদ্দেশ।কোন অনিশ্চয়তা।কোন দুস্পন।কেমন যেন বার বার দুলে উঠছিল দেহ। সেই দিন নিজেকে সামলে নিয়েছি কোন মতে।

    বৃষ্টি শেষ হওয়ায় বেশ ঠান্ডা অনুভুত হচ্ছে।তবুও ফেরার কোন ইচ্ছে নেই।গাছের পাতা বেয়ে পানি গড়িয়ে পরছে টপটপ করে।বকুল গাছটাইয় যে ধুলা লেগেছিল তা ধুয়ে মুছে গোসল হয়ে গেল।এখন তার সবুজ আভা প্রস্পুটিত হচ্ছে।দুর থেকে দেখলাম টং দোকানটা তবুও খোলা।মেঘ সরে গেছে অনেক্টা।আকাশ আবার পরিষ্কার।

    দিদন্তে তাকিয়ে দেখি সুর্য ডুবতে এখনো অনেক বাকি।একটা কালো বিড়ালের ছানা কোথা থেকে যেন ভিজে টুপু টুপু হয়ে পাশে এসে ম্যাও ম্যাও করছে।শরিরে লোম দারিয়ে রয়েছে সজারুর মত।সে দিকটায় একবার তাকিয়ে তাকালাম বারান্দা বরাবর।কেউ নেই।নিশ্চয়ি ঘরে গিয়ে গরম কাপর পরেছো।কিন্তু আমার কল্পটা মিথ্যা।দেখলাম কাপর পালটিয়ে নেমে এসেছো নিচে।তোমার চোখ বকুল গাছটা দিকে।খুব আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছো।আমার কয়েক জন সহজোগী যোর করে পাঠিয়ে দিল সে দিকটায়।আমি সামনে যাচ্ছি আর তুমি এগিয়ে আসছো।একটু একটু দুরত্ব কমে আসছে। আমার নজর তোমার পানে।লাজুক দৃষ্টি।হাটতে সেদিনের মতই যোর পাচ্ছি না।দুরত্ব কমেই আসছে।তোমার গতির তুলনায় আমার গতি অনেক বেশি হওয়া এখন আমরা দুজনই গাছ থেকে সমান দুরত্বে।তুমি এক বার আমার পানে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিলে।শরিরের মধ্য একটা চোট খেল।আস পাশ করছে বুকের ভেতর।আমি প্রায় গাছের কাছা কাছি।তুমিও একই দুরত্ব।এবার তোমার চোখ আমার চোখের দিকে।বার বার চোখ সরে যাচ্ছে আবার চেষ্টা করছো তা ফিরিয়ে নেবার।য়ামার মধ্য উথাল পাথাল ডেউ।ভেতরে ভেতরে ভেঙ্গে চুরে যাচ্ছে।আশ-পাশ করছে মন।হা হুতাশ ছরিয়ে পরছে বাতাসে।মনে হচ্ছে তুমি কিছু একটা বলবে।আমারও তেমন অনুভুতি।কিছু একটা বলা দরকার।যা মনে আসে তাই বলে দেব।মনের মধ্য কোন বাধা রাখবো না।কোন ভয় পাবো না।ভয় পেলে কোন সাধ্য সাধন করা যায় না।কি যেন বলবো এই মুহুর্তে ভুলে গেছি।কথা গলা থেকে ঠোট পর্যন্ত এসেছিল কিন্তু তা আর খুজে পেলাম না।দেখলাম তুমি কি যেন খুচ্ছিলে আর সে ভাবেই আমার দিকে তাকাচ্ছিল।আমার গতি একেবারে কম।প্রায় কাছা কাছা।তুমি কিছুটা ব্যাকুল।আবার অস্থির।আমি তোমার মত কিছু খোজার চেষ্টা করলাম না।মনে সাহস জোগাতে চেষ্টা করলাম।নাহ আমাকে বলতে হবে।কিন্তু সেই সাহস পাচ্ছিলাম না একদমই।হাত পা কাপছিল ধীরে ধীরে।তাই পাশ কাটিয়ে চলে যাই টং দোকানটির দিকে।

    পরদিন তোমার মনে আছে, সকালে আর প্রক্টিসে যাই নি।কারন মাঠ তখনও ভিজে রয়েছে।তুমি আমার অপেক্ষায় ছিলে কিনা জানিনা।দুপুর নাগাত জানতে পারি তুমি জল-পুকুরে গোসল করতে গিয়েছিলে।শুনে যান আমার দারুন কষ্ট লেগে ছিল।কষ্ট লেগেছিল কারন আমি তোমার সে দৃশ্য দেখতে পাই নি বলে।বিশ্বাস কর আমি সেখানে উপস্তিত হলে আমার মধ্য কোন খারাপ দৃষ্টি থাকতো না।তুমি সাতার কাটতে আর আমি উপরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তোমায় দেখতাম।দেখাম আমার এই দৃষ্টি দেখে লাজুক ভঙ্গিতে কাপর সামলে নিতে চেষ্টা করছো।লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে থাকতো।মাঝে মাঝে আমার পানে ফিরে তাকাতে আবার তাকাতে নিজের শরিরের দিকে।কোন অংশ উদাম রয়েছে কিনা? আমি দেখতে পারিনি।নিশ্চয়ি অন্য কেউ দেখেছে।কেন অন্য তোমাকে দেখবে।তুমি শুদুই আমার জন্য, শুধুই আমার জন্য।আফসোস আর কষ্ট নিয়েই থাকতে হয়েছে।

    পর দিন আবার শুরু হয় খেলা।দেখালাম তোমার ছোট বোন নেমে যাচ্ছে টং দোকানের দিকে।আমিও পা বারালাম সে দিকে।পেয়ে গেলাম ঠিক দোকানের সামনে।তখন চমৎকার কথা বলে সে।

    আমি জিজ্ঞাসা করি তোমার নাম কি?

    সে বলে অপরিচিত কাউকে নাম বলতে নেই।

    আমি বলি নাম বলায় দোষের কি?

    সে বলে না দোষের কিছু নেই।

    আমি বলি, তাছারা তোমার যারা পরিচিত তারা তো তোমার নাম জানেই।তাদের তো আর বলার নাম প্রয়োজন নেই।তারা তো   জানেই।ঠিক না?

    বলল, অমৃতা।

    আমি বলি সুন্দর।কি কিনতে এসেছো?

    লজেঞ্জ।

    এখানে কে- কে- থাকে তোমার?

    বাবা, মা, আর আপু।

    বাবার নাম?

    মুহাম্মদ আপেল।

    এবার আমি বেশ আগ্রহ নিয়ে বলি, আপুর নাম? প্রথমেই বলতে সাহস পাইনি।তাই তোমার বাবা কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম প্রথম।ইতস্তত বোধ হচ্ছিল।

    বলল, রুপতা।

    সে দিনই তোমার প্রথম নাম জানতে পারি।নামের মধ্যই মায়া আছে।আছে আমার নামের সাথে মিল।তুমি বোধ হয় তখন আমার নাম জানতে না।আমার নাম রুপস।অদ্ভুত মিল তাই না।শেষ দুট অক্ষরের মিল নেই।প্রথম দু-টর আছে দারুন।দুটি অক্ষরই একই।রুপ।এ নিয়ে অনেক ভেবেছিলাম যান? দেখ, শেষ দু-অক্ষর পাশা-পাশা সাজালে একবার হয় তাস।যা দিয়ে আজীবন মানুষ বাজি খেলে।আর অন্য ভাবে সাজালে হয়, সতা।আকার কেটে দিলে হয় সত।যার আজীবন জয়।

 

    এভাবেই চলল গোটা ছয় মাস ধরে।কষ্ট পেয়ে ছিলাম কখন যান? যখন জানতে পারি তুমি আর এ এলাকায় নেই।এখান ছেরে চলে গেছ নিজের এলাকায়।কি ব্যথাটা পেয়ে ছিলাম তা কাউকে বোঝানো যাবে না।কথাটা শুনে বুকের ভেতর থেকে একটা দির্ঘসাস ছড়িয়ে পরেছিল বাতাসে।সমুদ্রের দেউয়ের মত ব্যাথা আচরে পরছে হ্রদয়ের গহিনে।মনে হচ্ছিল প্রথিবির সব অক্সিজেন আজ কমে গিয়েছে।প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে।ঝরনা ধারার মত বেয়ে আসতে চাচ্ছিল কান্না।চেষ্টা করলাম চেপে ধরার।বেশি সময় পারলাম না।দু-হাত তুলে বেশ যোর গলায় বলেছিলাম আমি ব্যর্থ, আমি ব্যর্থ।আমি সাহসের কাছে ব্যর্থ।এতো সুজক পাওয়া সত্তেও তোমায় বলা হয়নি মনের মধ্য লুকিয়ে থাকা চাওয়া পাওয়া গুলো।

    যে কথা গুলো তুমি জাননা আজ তা বলছি।আসলে আমি ভেবে ছিলাম কোন একদিন তোমায় বলবো আমা ভাললাগার কথা, যে দিন আমার কোন যগ্যতা থাকবে।শুধু শুধু আগ বাড়িয়ে বলে যদি যোগ্যতার অভাবে তোমার কাছ থেকে প্রত্যাখিত হই তবে আমি আরো বেশি কষ্টা পাবো।তাছারা তোমার বাবাকে যেদিন প্রথম দেখি সেদিন থেকেই ভয় পেতে শুরু করি।কি পরিমান ভয় পেতাম তা বলার বাইরে।হঠাৎ এভাবে চলে যাবে ভাবতেও পারিনি।ভেবে ছিলাম অন্তত দুবছর আছো আমাদের এলাকায়।পরে শুনে ছিলাম তোমার বাবাকে রাজনৈ্তিক কারনে জন্য ট্রানফার করে এখানে পাঠানো হয়।শুনে ছিলাম তোমার বাবার সাথে নাকি স্থাথানীয় এক নেতার সাথে কি যেন হয়ে ছিল যার দরুন এ ব্যাবস্থা।অনেক দিনই থাকার কথা ছিল কিন্তু তোমার বাবা উপর মহলে চেষ্টা ততবির করে আবার ফিরে যায় নিজ এলাকায়।খনজন্মার মত হয়ে কেন যে আমাদের এলায় এসেছিলে বুঝতে পারি না।এলে যখন তখন কেনইবা চলে যাবে এভাবে।কেন মনের মধ্য কোন একটা পোকা প্রতি নিয়ত কিট কিট করে কামরে খাবে।কেন প্রতিনিয়ত পোরাবে আমার পুরো শরির।

তোমার চলে যাওয়ার পর তোমাদের ঠিকানা সংগ্রহ করি।তবে সাহস পাই নি সেখানে যাওয়ার।তাছারা তোমার সাথে আমার তেমন কোন সম্পর্ক গরে ওঠে নি।কি অধিকারে তোমার সামনে দিয়ে দাড়ায়।তাছারা তোমার বাবা যদি আমায় অপমান করে তাড়িয়ে দেয়।

     এরপর থেকে পুরো দমে লেগে যাই ক্রিকেটের পেছন।বছর খানিক প্রক্টিস করার পর ঢাকা গিয়ে ট্রাই করি একটা ক্লাবে।চাঞ্ছ পেয়ে যাই।শুরু হয় আমার নতুন জীবন।দু-বছর ধারা বাহিক ভাল পারফর্মেঞ্ছ থাকাতে ডুকে যাই জাতিয় দলে।এখনো তাই আছি।

                                                                                 ইতি

                                                                              রুপন্ন আহম্মদ

                                                                              ১১/০২/০৬

 

    ট্রেন স্টেশন।নাম ছরিয়ে পরার পর থেকে তেমন ডিলে ডালা ভাবে যেথায় সেথায় যাওয়া হয় না।ুনেক দি বাদে এখাবে ট্রেনে করে যাবে।চোখে চশমা পরেছে যাতে সহজে মানুষ চিনতে না পারে।তারোকা হওয়ার জালা আছে।সেষ্টন খুব বড় নয়।তবে প্রচুর মানুষ যাতায়াত করে।

।রুপতা তেমনি আছে।চেহারার উজ্জলতা আরো বেড়েছে।মুখের হাসিটা আরো বেশি মায়া ছরায়।পরনে কমলা রঙ্গয়ের শাড়ি।হাতে অনেক দূর পর্যন্ত বিভিন্ন কালারের চুরি।বলে, আমারও মনে হত তুমি আমায় ভালবাস। আমারও তোমায় ভাল লাগতো।আমি অপেক্ষা করতাম কিছু একটা বলবে বলে।অনেক বার কাছা কাছি আসার পরও যখন তুমি কিছু বলনি তখন ভাবতাম এটা আমার মনের ভুল।আমিও ভয় পেতাম।ভয় পেতাম প্রতাখ্যিত হওয়ার।ভয় পেতাম বাবাকে।যাকে আমি আজও ভয় পাই।তুমি যে শিহরনের কথা বললে তা আমারও হত।আমার ভিতর নিংরে যেত ভালবাসার ব্যাকুলতায়।আমার লাজুক চোখ তোমায় খুজতো।লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম, তখনকার বয়সে ভালবাসার আবেগ থাকে অনেক বেশি।কিন্তু সেই বয়ষে কেউ এতো সাহস দেখায় না।আমিও তাই পারিনি।

    যানো? আমার এখন অনেক সাহস।আমি প্রতিনিধিত্ব করি পুরো বাংলাদের।কাউকে পরিচয় দিতে হয় না।পরিচয় আমার পরিচয় দেয়।পুরো দেশের মানুষ আমায় ভালবাসে।সন্মান করে।কারো কারো ঘরে আমার ছবি টানানো।কোন কোন মেয়ে অপেক্ষায় আছে আমার জন্য।জান? আমি অনেক দিন ধরে মনে মনে তোমায় খুচ্ছি।একটানা খেলার কারনে তোমার সাথে দেখা করার সময় হয়নি।এবার একটু ছুটি।তাতেই যাবো ভাবছিলাম।কি কপাল বল এখানেই দেখা হয়ে গেল।আজও তোমার ঠিকানা আমার পকেটে থাকে।পকেট থেকে একটি পুরনো কাগজ বের করে বলে, এই দেখো, দেখো।কত যন্ত করে রেখেছি।

    রুপতা হাতে নিয়ে বলে, ঠিকানা তো ঠিকই আছে।

    হ্যা এটা সত্যি তোমার এখন অনেক নাম ডাক।সবাই তোমায় চেনে ভালবাসে।প্রায়ই দেখি টিভি পর্দায়।যে দিন প্রথম তোমার খেলা দেখি সেদিন থেকেই তোমার ভক্ত হয়ে যাই।আজ কাল যখন টিভিতে দেখি তখ খুব আপসোস হয়।আফসোস হয় তোমার সাথে তখনই যদি সম্পর্কটা হয়ে যেতো তবে আমিও তোমার ওখানে তাকতে পাওরতাম।দিতে পারতাম উৎসাহ।যখন ঐ দূর থেকে দেখি তখন খুব কষ্ট হয়।মনে হয় জোগাযোক করি।ক্রিকেট আমার বরাবরই পছন্দের।যদিও প্রথম সে দিনের পারফর্মেস ভাল ছিল না।আমি তোমার মধ্য নতুন কিছু আভাস পেতাম।মাঝে মাঝে তোময় ছুয়ে দেখার বাসনা হত।ইচ্ছে হত অনেক কথা বলতে।

    রুপস বলে, আমি এখন তোমার বাবার সামনে দারাতে পারব।বলতে পারবো আপনার মেয়েকে আমার ভাল লেগেছে অনেক দিন ধরে।য়ামিযত টুকু এগিয়ে তা আপনারই মেয়ের জন্য।তাকে বিয়ে কতে চাই যদি আপনার কোন আপত্তি না থাকে।আমার মনে হয় না তোমার বাবা আমায় ফিরিয়ে দিবে।তিনিও আমায় চেনেন।তিনিও জানেন আমি দেশের গর্ব।

    আচ্ছা, বকুল গাছটা এখনো কত বড় হয়েছে?

    সেটি আজ আর নেই।সময়ের দাবি মেটাতে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে সভ্যাতার মাঝে।নিজেকে সদর্পে লুটে দিয়েছে মানুষের কাছে।সেটা কেটে রাস্তা বড় করা হয়েছে।মাঠাও তেমন নেই।চার পাশ থেকে চাপাতে চাপাতে ছোট একটি মাঠে পরিনত হয়েছে।

আমার কত ভাল লাগছে তোমাকে বলে বোঝানো যাবেনা।কত বছর পর দেখা তাই না।চুলের স্টাইল পরিবরির্তন কর কেন? আগে তো ভালই ছিল।

    রুপস হেসে বলে, এই তো মাঝে মাঝে একটু এদিক সেদিক করে দেখি কি হয়।

    অনেক বড় হয়েছো।

    তুমিও কম নয়।

    পুকুরটার কি অবস্থা?

    মানুষের মনের মত তারও গভিরতা কমে গেছে অনেক খানি।কেউ যন্ত নেয় না।ধীরে ধীরে ঐতিহ্য কমে যাচ্ছে।জান তুমি আমাকে ফিরিয়ে দাওনি বলে বেশ ভাল লাগছে।আমারও কতটা ভাল লাগছে তোমাকে বলে বোঝানো যাবে না।আমি সর্গ পেয়ে গেছি।লাপাতে ইচ্ছে করছে ঠিক যেমন বাংলাদেশ টিমকে জিতাতে পারলে হয়।এতো বছরের অপেক্ষার অবসান।

    তুমি দেশের তারকা।অনেক বড় তারকা।তোমার মত একজন প্রতিষ্টিত মানুষ প্রস্তাব দিচ্ছে এবং তা সামনা সামনি।ভাবতে মনের মধ্য শিহরন আনে।শুধু আমি নই যে কাউকেই তুমি প্রস্থাব দিবে সে রাজি হয়ে যাবে অনায়াসে।

তোমার সাথে আজ অনেক না বলা কথা বলবো।যা শুধু একজনকেই বলা যায়।

    রুপতা একটু হাসে, উত্তর দেয় না।

    কিছু বললে না?

    তোমার মত এক জন দেশ বরন্য আমায় ভালবেসেছে এর চেয়ে বেশি কিছু নেই।এটা আমার সাত যনমের ভাগ্য।অনেক কথা হল।ট্রেনের হুইসাল শোনা যাচ্ছে।কেপে উঠছে চার পাশ।লোক জন ছোটা ছুই করছে বেশ পরিমানে।ভোদহয় এসে পরেছে খুব কাছাকাছি।রুপতা চোখের ভাষা নমনিও করে বলে, ও পাশে আমার স্বামী সন্তান দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় আছে আমার জন্য।আমাকে যেতে হবে।

    একই ভঙ্গীতে আবার বলে, তবে বোধ হয় আজ থেকে আমার প্রতি তোমার কোন একটা বিদ্দেশ তৈরি হবে।হয়তো ভাববে সেই সময় আমি আগ বাড়িয়ে বলিনি কেন? হয়তো প্রচন্ড একটা রাগ হবে আমার উপর।যদি কোণ নিদ্দ্যেশ অথাবা কোন রাগ আমার উপর থাকে তবে অনুরোধ সেই রাগটা তুমি খালার মাথে দেখাও।সেই রাগটা ঝার প্রতি পক্ষের উপর।ভাবো ঐ লাল অথবা সাদা বলটা আমি এবং আমায় দুবাহুতে প্রচন্ড শক্তি এনে মারো।বার বার মার।প্রচন্ড মার।মেরে বাইরে বের করে দাও বারবার।যাতে বাংলাদেশ বার বার হাসে।আর তোমার অফুরন্ত ভালভাসা যা এতো দিন ধরে জিয়িয়ে রেখেছো তা শুধু এক জনের জন্য নয় ছড়িয়ে দাও দেশের প্রতিটা মানুষের মধ্য।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s

নিব

:উৎসঙ্গ সৃজন চিন্তনের একটি শোভন ছড়াপত্র

বাঙলা

আফসার নিজাম সম্পাদিত : চিন্তাশীল পাঠকের মননশীল সৃজন

%d bloggers like this: