অক্টোবর 10, 2011

কেন কবিতা লিখি


সৈয়দ আলী আশরাফ

কাব্য রচনা করছি নিজেকে জানার জন্য, ভাষার মারপ্যাঁচ দেখাবার জন্য নয় বা কোন মতবাদ প্রচার করার জন্য নয়। ‘মান আরাফা নাফসাহু ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু’ তাই ‘আত্মানং বিদ্ধিঃ’ অর্থাৎ ‘নিজেকে জানো’- এই হচ্ছে আমার কাব্য রচনার মূল উদ্দেশ্য।
কে সেই ‘নিজে’? সে নিজেকে চিনবে কিভাবে?
মানবিক প্রেম আর বিরোধের রাজ্যে নিজেকে পেয়েছি। সমাজের বিচিত্র মানবগোষ্ঠীর মধ্যে সঙ্গত-অসঙ্গত বিবিধ অবস্থার মধ্যে নিজেকে দেখেছি। কামনা, বাসনা, লোভ, হিংসার বিচিত্র দোলায় নিজেকে দোলায়িত অবস্থায় অনুভব করেছি। মানুষকে বিশ্বাস করে অকৃপণ বর্বরতার আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছি।
তবু মানুষের পরম সত্যের উপর বিশ্বাস হারাইনি, বরঞ্চ এমন সমস্ত মহৎ আত্মার স্পর্শে আমার সত্ত্বা জাগ্রত,উদ্দীপ্ত এবং আলোকিত হয়েছে যে মানবতার মহত্বের উপর বিশ্বাস গাঢ়তর হয়েছে, সমাজের অসঙ্গতর অন্তরালে সঙ্গতির উৎসের সন্ধান পেয়েছি এবং মানবাত্মার কল্যাণ কামনায় অসুন্দরের বিরুদ্ধে জেহাদে লিপ্ত হয়েছি।
এই জেহাদের মাধ্যমে নিজের অন্তর্নিহিত দুর্বলতার সন্ধান পেয়েছি, তাই কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে নিত্য নতুনভাবে নিজস্ব সত্ত্বার বিস্তারিত পড়ুন

অক্টোবর 10, 2011

এক শতাব্দীর বর্ণাঢ্য জীবন


শেখ আবুল কাসেম মিঠুন

এক
প্রতিষ্ঠিত কায়েমী স্বার্থ যে পরিবেশ ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সেই আবহাওয়ায় এক শ্রেণীর মানুষ তাদের সমস্ত আদর্শ ত্যাগ করে আত্মোন্নয়নে নিজস্ব ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র সুযোগের সদ্ব্যবহার করে পার্থিব উন্নতি সাধনে ব্রতী হয়। আর শক্তিশালী কায়েমী স্বার্থের প্রতিকূলে যারা একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যায় তারা সামগ্রিক মানবকল্যাণ ও মানব উন্নয়নের জন্য তাঁদের সমস্ত শক্তি, অর্থ, মেধা, শ্রম ব্যয় করে নির্দিষ্ট কর্মসূচি অনুযায়ী কর্মপদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকেন। প্রতি পদক্ষেপে সেখানে আসে বাধা-বিপত্তি, আসে দু:খ-কষ্ট, অভাব, অসম্মান এবং কখনো আসে প্রাণনাশের হুমকী। খরচ হয় অর্থ-সম্পদ, শক্তি এবং সকলপ্রকার আরাম আয়েশ ও সুখ নিদ্রা তাকে ত্যাগ করতে হয়।

সিঁড়ি বেয়ে ভবনের নিচে নামা অতি সহজ, প্রথমোক্ত ব্যক্তিরা এই সহজ পদ্ধতির নাম রেখেছেন উন্নতি। আর একটা একটা করে সিঁড়ি ভেঙ্গে যারা মানবকল্যাণে কাজ করেন তাদেরকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করতে চান। বিস্তারিত পড়ুন

অক্টোবর 10, 2011

আলোকময়ী নারী বেগম রোকেয়া


কানিজ ফাতিমা

কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ও ধর্মীয় গোড়ামীপূর্ণ এক অন্ধকার সময়ে ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন বেগম রোকেয়া। ঐ সময়কার কুসংস্কারের বেশীর ভাগই ছিল নারী সমাজকে ঘিরে। নারীরা, বিশেষ করে মুসলিম নারীরা ছিলেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। পর্দা প্রথার নামে নারীদের ঘরে আবদ্ধ রাখা হত। এমনকি প্রয়োজনে নারীকে ঘর থেকে বের হওয়া এবং সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করাও ছিল নিষিদ্ধ। বেগম রোকেয়া এসব কুসংস্কার ও ধর্মীয় অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। ইসলাম প্রদত্ত নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে গেছেন আজীবন নিরলসভাবে। দু:খজনক হলেও সত্যি অনেকে মনে করেন বেগম রোকেয়া ইসলামী আদর্শ ও ইসলাম নির্দেশিত পর্দা প্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। এর কারণ হল এক দল ব্যক্তি বেগম রোকেয়ার চরিত্রকে ওভাবেই চিত্রিত করার প্রয়াস পেয়েছেন। তারা বেগম রোকেয়াকে ইসলামী পুন:র্জাগরন ও পর্দা বা হিজাব এর বিরুদ্ধে প্রতিক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। অথচ যারাই বেগম রোকেয়ার লেখা পড়েছেন এবং তার ব্যক্তিগত পত্রাবলী যা তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নজনকে দিয়েছেন, পড়েছেন তাদের মনে বিন্দু মাত্র সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই যে বেগম রোকেয়া ইসলামের বিরোধীতা করেননি; করেছেন ইসলামী অনুশাসনের অপব্যাখ্যা ও বাড়াবাড়ির বিরোধীতা; তিনি হিজাবের বিরোধীতা বিস্তারিত পড়ুন

অক্টোবর 10, 2011

হাসান আলীমের সাথে সংলাপ, প্রসঙ্গ ‘কাব্য মোজেজা’


আহমদ বাসির

[হাসান আলীম কাব্যে তাঁর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছেন। কবিতায় তিনি প্রতিনিয়ত বাঁক গ্রহণে বিশ্বাসী। তাঁর ‘কাব্য মোজেজা’ এমন একটি গ্রন্থ যেখানে তিনি নতুন বাঁক স্পষ্ট করেছেন। এই যুক্তির যুগে যেমন করে ‘যাদুবাস্তবতা’র উপস্থাপনা ঘটে, তেমন করে ‘কাব্য মোজেজা’র উপস্থাপনাও যুক্তিসঙ্গত। হাসান আলীমের গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় দুহাজার সালে। গ্রন্থটিতে ‘প্রাসঙ্গিকি’ ছদ্মাবরণে একটি প্রস্তাবনাও দাখিল করেছেন তিনি। গ্রন্থটি প্রকাশের পরপরই তাঁর সাথে এ সংলাপ…। দীর্ঘদিন পর এটি পত্রস্থ হল।]
‘কাব্য মোজেজা’র শুরুতে আপনি একটি প্রাসঙ্গিকি টেনেছেন। এ তথ্য স্মরণে রেখে আমরা জানতে চাই, ‘কাব্য মোজেজা’ আপনার কাব্যসাধনার একটি নতুন অধ্যায় নাকি একটি আন্দোলনের প্রস্তাবনা?
কাব্যসাহিত্যে বিশেষ করে আলাদা বৈশিষ্টপূর্ণ কাব্যসৃষ্টির প্রয়াসে এবং সেগুলোকে খোলাসা করার জন্য কেউ কেউ কাব্যগ্রন্থে প্রসঙ্গ বক্তব্য পেশ করেন। এটা অস্বাভাবিক বা অপরিচিত নয়। ঞ.ঝ. ঊষষরড়ঃ তাঁর কোন কোন কাব্যগ্রন্থে ভূমিকা জুড়ে দিয়েছেন এবং আমাদের সাহিত্যেও এর রেওয়াজ আছে। ‘মোজেজা’র সাথে মুসলিম সাধক ও বুদ্ধিজীবীগণ পরিচিত। তবে মোজেজার বিষয়, ঘটনা এবং বৈশিষ্ট নিয়ে কাব্যে কেউ ঊীঢ়বৎরসবহঃ করেনি। বিস্তারিত পড়ুন

অক্টোবর 10, 2011

আমার প্রথম আমেরিকা সফর


মুহম্মদ মতিউর রহমান

আমার বড় ছেলে আহমদুর রহমান জাহিদ আমেরিকায় ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে ১৯৯৬ সনে দেশে ফিরে এসেছে। বর্তমানে সে দুবাইতে কর্মরত। বড় মেয়ে সুমাইয়া রহমান ও ছোট ছেলে আবিদুর রহমান আমেরিকায় থাকে। বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজিতে অনার্স ও মাস্টার্স পাশ করেছে। জামাই এনামুল হক আমেরিকায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনীয়ারিং-এ এমএস করে সেখানে চাকরি করছে। ছোট ছেলে আমেরিকায় ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে সেখানেই কাজ করছে। বড় মেয়ে ও ছোট ছেলেকে দেখার জন্য আমি ও আমার স্ত্রী বেগম খালেদা রহমান ২০০৬ সনের ফেব্র“য়ারি মাসে আমেরিকায় বেড়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। যাওয়া ও আসার পথে দুবাইতে বড় ছেলে ও আমার নাতির সাথেও দেখা করে আসার ব্যবস্থা করলাম। এর আগে আমি কখনও আমেরিকায় যাইনি। এবারই আমার প্রথম আমেরিকা যাত্রা। আমেরিকা স্বপ্নের দেশ, অনেকের কাছেই। সে স্বপ্নের দেশ কেমন তা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করার আগ্রহও কম ছিল না।
ফেব্র“য়ারির ১৮ তারিখে আমি ও আমার স্ত্রী সকাল বেলা ফযরের নামায পড়ে প্রস্তুত হয়ে নিলাম। সকাল ৬.৩০ টায় আমার ছোট জামাই স্কোয়ার্ডন লিডার মইনুল হক আমার ছোট মেয়ে আফিয়া রহমানকে নিয়ে আমার বাসায় এলো। গাড়িতে মালপত্র তুলে আমরা বিস্তারিত পড়ুন

অক্টোবর 10, 2011

নজরুল মানস প্রবন্ধের আলোকে


কাজী দীন মুহাম্মদ

এক.
আধুনিককালের বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমের নবজাগৃতি ও নব জীবন বোধের ইতিহাসের শেষ পর্যায়ে নজরুল ইসলামের আবির্ভাব শুধু আকস্মিক নয়, অভাবনীয়ও বটে। তাঁর প্রত্যেকটি লেখায়, কি পদ্যে কি গদ্যে, ভাব ও চিন্তায় যে বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে, বাংলার হিন্দু মুসিলেমর পক্ষে যে কঠোর আত্মজিজ্ঞাসা ও আত্মবুদ্ধির তাগিদ রয়েছে, ভাব প্রবণ আমাদের জীবনের সংস্কার শৃঙ্খল ছিন্ন করার যে রূঢ় আহ্বান রয়েছে, তা কেবল অসীম সাহসিকতার পরিচায়ক নয়, পরম বিস্ময়ের বিষয়ও। বাংলার মুসলিম সমাজের জাগরণের ইতিহাসের পুরোভাগে তাঁর স্থান। বাংলার নিস্পৃহ অকর্মণ্য জীবনে তাঁর বিউগলের উদাত্ত আহ্বান সায়রেনের মত দুর্যোগের এক ভয়াল ছবি এঁকে দিয়ে গেল। তাঁর ‘অগ্নিবীণা’ ও ‘বিষের বাঁশী’র সুরের কী মহিমা ! সে সুর থেমে গেলেও তার কানফাটা আর্তনাদ যেন থামতে চায়না। তাঁর বাণী যেন শত শত ক্ষুধার্ত দৈত্যের উন্মত্ত চিৎকার ভয়াবহ হুঙ্কার। কোটি দানবের পদÑশৃঙ্খল যেন এক সঙ্গে ঝন ঝন করে সে আওয়াজে। আমাদের সাহিত্যে যে এত প্রাণ এত উচ্ছলতা রয়েছে, নজরুলের বাণী শোনার আগে আমরা তা বুঝতে পারিনি। বিস্তারিত পড়ুন

অক্টোবর 10, 2011

সূর্য ওঠার শব্দ

আহসানুল ইসলাম

বেদনায় পাথর হলো অভিমানী মুখ। বাঁচার সাধ কর্পূরের মতো নিঃশেষ হলো। তবুও মাধ্যাকর্ষণ প্রেম বারবার পৃথিবীর কারুকার্যময় সবুজের স্বাদ ও গন্ধ নিতে বাধ্য করে। কামার-শালার হাপরের মতো ফুসফুস বাতাস গ্রহণ করছে, বর্জন করছে। অনীহা ও করুণ কষ্টের একটি চিত্র শরীরের প্রতিটি রগে পষ্ট হয়ে জানান দিচ্ছে তার অপারগতা।
শেষ বারের মতো তার কয়েকটি ইচ্ছে টুনটুনি পাখির মতো ছটফট করে ওঠে। একবার মাকে দেখতে ইচ্ছে করে। মা যদি একটু হাত বুলিয়ে দিতো, গেঁথে যাওয়া বুলেটের ক্ষতে! অদ্ভূত আরেকটি ইচ্ছে মাথাচাড়া দেয়। ইচ্ছে হয় বাথরুমে ঢুকে বেশ দীর্ঘ সময় নিয়ে গোসল করতে। আজ তিন দিন গোসল করা যায় নি শরীর কেমন কাদা-কাদা ভুটকা গন্ধে ভরে আছে। অবাক লাগে গত দুই দিনে একবারও খাবার গ্রহণ করার বিষয়টি মাথায় আসেনি।
যারা ধরে এনেছে তাদের কথা … ? তাদের ব্যবহারে প্রকৃত মানুষের কোন আচরণ ছিল না, মানুষের প্রতি তাদের কোন দায়বদ্ধতাও ছিল না, মানুষকে হত্যা করার মধ্যেও একটি ভব্যতা প্রাচিন কালে ছিল। মানুষকে ফাঁসির মঞ্চে নেবার আগে মানবিক বেদনাবোধের গাম্ভীর্যতা দেখানো হয়। অথচ আমার সাথে আইনের বর্মপরা ঐ লোকগুলো নেকড়ের চেয়ে অধিক অশ্লীল-হিংস্র আচরণ করেছে। অথচ আমি জানি, আমি এমন আচরণ পাবার যোগ্য নই। আমি মৃত মানুষ! আমার কথায় কারো কিছু আসবে যাবে না। আমার কথা প্রচলিত আইনকে উপেক্ষা করলেও কারো ক্ষতি হবে না। উপকার না ও হতে পারে, তবুও বলি …।
আমি …, মানে আমি, তার কথার মধ্যে ঢুকে যাই বিনা অনুমতিতে। কারণ মৃত মানুষটি এখন অন্য জগতের। আমার জগতের মানুষকে এভাবে মূল্যায়ন করায় স্বার্থপর হয়ে উঠি। একটি সুচালো খেদ আমার ভেতরে জেগে ওঠে।
যারা আপনাকে ধরে আনলো। তারা কি সবাই সীমার? আপনাকে খেতেও দিল না? সে আমার কথার উত্তর না দিয়ে শরীরের ধুলো ঝড়ে। গালে লেগে থানা মাটি মোছে। এবং আমার প্রশ্নের কাছাকাছি এসে অন্যভাবে উত্তর দেয়।
হ্যা, সবাই সীমার Ñ তবে সীমার হলেও সিমার চাইতে ভালো!
তার দৃষ্টির প্রেক্ষনে উদাস ও বিচ্ছিন্নতা। ঘৃণা এবং তিক্ততা ঝড়ে পড়ছে সিমার প্রতি। আমি আবারো প্রশ্ন করি। আপনি যাকে জীবনের চাইতে বেশী ভালোবাসতেন। তাকে, মানে সিমাকে, সীমারের চাইতে বেশি খারাপ ভাবছেন? অথচ তার জন্য অর্থাৎ সিমার জন্য আপনি আপনজনদের কাছ থেকে নিগৃহীত হয়েছেন কোটি টাকা খরচ করেছেন, রাজনৈতিক ভবিষ্যত …
সে হঠাৎ ধ্যানমগ্ন সাধকের মতো ডানহাত উঁচু করে আমাকে থামিয়ে দেয়। আমি থেমে যাই। আমি থেমে যেতেই রাতের মেজাজ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাতের একটি বিশেষ গন্ধ আছে, যা আমার নাকে লাগছে। রাতের আলাদা শব্দ আছে, সে শব্দ কথা বলছে ফিসফিস করেÑ এবং রাত আমার দিকে তাকিয়ে আছেÑ যেভাবে তাকালে অস্বস্তি লাগে। আমার অস্বস্থি লাগছে। আমি ধ্যানমগ্ন সাধকের দিকে তাকাই। যেভাবে তাকালে দৃষ্টি কথা বলে, সেভাবে।
সে মাথা নাচায়, কষ্ট ফুটে ওঠে কপালের দুপাশের রগে। অতিরিক্ত রক্তের চাপে রাগ ফুলে উঠছেÑ এতে মুখমণ্ডল রক্তজবার মতো লাল হয়ে ওঠে ক্রমেই।
সে কথা বলে।
হ্যা, মহিলার মিথ্যে কথার বিষ বুলেটের তপ্ত শিশার চেয়ে অধিক বেদনাদায়ক। আহা মানুষ কি করে যে এতটা মিথ্যে বলে? মানুষ কথা বলতে পারে এটাই যেন মানুষের দুর্ভাগ্য।
সিমাকে সিমা বলতেও লজ্জা হয়। মহিলার চোখে মুখে, হাতে নখে ঠোঁটে মিথ্যে বলার তুলি। নিখুঁত শিল্পীর মতো সরল ক্যানভাসে সে মিথ্যে আঁকে। বলে আমি নাকি তাকে জোর করে ধরে এনে…।
এরপর আর তার কথা বেরোয় না, মুক হয়ে যাওয়া মুখে মেঘ জমে ওঠে। শীতে কাঁপা শিশুর মতো তার ঠোঁট কাঁপে, কাপা ঠোঁটের প্রতিটি কথার বুকে পিঠে কষ্টের দারুণ পদ্ম উথলে ওঠে।
… পরপর ছয়টি গুলি! আমি বেদনায় কাতরাতে থাকি। কাতরানোর মধ্যেও সিমার ঐ কথাটি আমাকে চাবুক পেটাচ্ছিল Ñ সে, মানে ঐ মহিলা নির্জলা মিথ্যে বলছিল। সত্য বললেও পরিণতি এমনই হতে পারতো। কারণ, আমার মরণ নিয়ে দাম-দস্তুর হচ্ছিল, শেষপর্যন্ত ক্রেতারা সফলও হলো- কিন্তু ঐ যে মিথ্যেটা…। তপ্ত-গুলি যখন আমার দেহে ঢুকে তখন অব্যক্ত বেদনার মধ্যেও একটি ইচ্ছে জাগে। গেঁথে যাওয়া ক্ষতে একটু হাত বুলিয়ে নিতে ইচ্ছে করে, কিন্তু আমার হাত পেছন দিক হতে বাঁধা।
ইচ্ছে করছিল রাতের চেহারা মোবারক একটু দেখি, কিন্তু আমার চোঁখ বাঁধা। শক্ত করে চোখ বেঁধে রাখায় অন্য একটি কালো অন্ধকার আমার চোখে সওয়ার হয়ে আছে। আমার চোখ টাটায়! কুরবানির জবাই করা পশুর মতো ছট্ফট্ করি, কাতরাতে থাকি। মাটির সাথে চোয়াল ঘষে ঘষে যন্ত্রণা প্রশমীত করার চেষ্টা করি। দারুণ স্নেহে মাটি আমাকে বুকে তুলে নেয়। প্রবল সোহাগ ও যতেœ তার খুব ভিতরে নিয়ে নেয়।
যারা আমাকে গুলি করেছিল সে পাপিষ্ঠ লোভি লোকগুলো … না লোক নয়, বিপথগামী ডিবি পুলিশেরা, ভীতুমুখে আমার কাতরানোর দৃশ্য দেখে। আমার মাথায় তখন অদ্ভুত একটি চিন্তা পাগলা চেলা মাছের মতো খলবল করে নেচে ওঠে। কি আনন্দ ওদের। আমি মারা যাবার পর ওদের মধ্যে পনেরো লাখ টাকা ভাগাভাগি হবে। আচ্ছা, ওরা কি এখন টাকার কথা ভাবছে? নাকি শুধু মাত্র টাকার লোভে আমাকে হত্যা করে মানবিক কষ্ট অনুভব করছে? ওরা, মানে ঐ লোকগুলো, না লোকগুলো নয় ডিবি পুলিশ।
আমি মারা যাবার আগে এসি আকরাম নামে এক নরাধম পাপিষ্ঠ নোংরা পুলিশ আমার উপর অত্যাচার করেছিল। আমাকে ঝালযুক্ত মরিচের গুলানো পানি পান করতে বাধ্য করেছিল। এবং বারবার প্রস্রাব হবে এমন একটি ঔষধ আমাকে খাইয়ে দেয়। আমি বারবার পেশাব করি আর জ্বলে-পুড়ে যাবার বেদনায় পশুর মতো হাহাকার করেছিলাম। আমি সে দিন রোজা ছিলামÑ রোজা মুখে অভিসম্পাত করেছিলামÑ এবং কিছুদিন পর রুবেল হত্যার আসামী হয়ে এসি আকরাম নামক নোংরা পুলিশটার পতিত হওয়া আমি নিজের চোখে দেখেছি।
আজ যে লোভীরা আমাকে হত্যা করলো ওদের প্রতি আমার অভিশাপ। ওদের পরবর্তী প্রজন্ম পঙ্গু, নেশাখোর, পশুপ্রকৃতির হবে। ওদের ঘরে, ওদের মনে কোন সুখ থাকবে না। ওরা রক্ষক হয়ে ভক্ষণ করে। সরকারি পোশাক পরে নীরব চাঁদাবাজী-মাগিবাজী-হাইজ্যাকÑ নিম্ন ও উচ্চংগের সব অপরাধ করে। এই খারাপ লোকেরাই আমাকে হত্যা করলোÑ এটাই বেদনার।
হঠাৎ করে থেমে, আমার, মানে আমার চোখের দিকে তাকায়। তার চোখে তৃপ্তিকর ঘৃণাবোধ। সে আমার কানের কাছে মুখ এনে বলেÑ
আমার খুনির চেয়েও আমি সিমাকে অধিক ঘৃণা করি, মহিলা মিথ্যে বলার পতঙ্গ। সেলিম ভাই হঠাৎ প্রসঙ্গ বদলে ফেলে আমাকে প্রশ্ন করে।
আচ্ছা নিম্নীর খবর কি ?
আমি চমকে ওঠে তার দিকে তাকাই।
সে কি যেন মনে করে হাসে দারুণ হাসির ঝলকে গাকেঁ ওঠে। ঠিক সে সময়ে তার উপরের ঠোঁটের ডানপাশে লুকিয়ে থাকা গ্যাজ দাঁতটি বেরিয়ে উজ্জ্বল বিভা ছড়ায়, সৌন্দর্য্য আছড়ে পড়ে আমার বিছানায়। আমরা পাশাপাশি শুয়ে পড়ি। এক মৃতের সাথে শুয়ে আছি, তার সাথে সাচ্ছন্দে কথা বলছি। তার ক্ষত থেকে রক্ত ঝরছে। সে রক্ত আমার শরীরে লাগছে এবং একটু পরে সে রক্ত আমার শরীরের সাথে মিশে যাচ্ছে। এ অলৌকিক রক্ত মিশে যাবার বিষয়টি আমার ভাবনার কেন্দ্রকে উত্তেজিত করতে পারছে না। খুব স্বাভাবিকভাবে মেনে নিচ্ছে।
অথচ আমার চোখ ফেটে অসহায় অশ্র“ ঝরে পড়ছে। আমার কান্না দেখে সে আবারো হেসে ওঠে। তার মৃত্যু যেন কোন বেদনার বিষয় নয়। তাই আমার কান্না তার কাছে হাস্যকর।
তার এখনকার এই দীর্ঘ হাসিটি অন্যরকম। যে হাসি রাতকে গাঢ় করে তোলে ঘনকালো নিঝুম করে তোলে। আমি ভয়ের কোন কারণ দেখি না। তাই ভয় পাবার বিশেষ সেলগুলো স্বাভাবিক শান্ত থাকে। আমি মৃত সেলিম ভাইয়ের সাথে বেশ স্বাচ্ছন্দ্বে কথা বলছি।
আমার ভেতরে একটি ধারণা নড়ে-চড়ে, কথা বলে। বলে, দেখো জীবিত মানুষের চেয়ে মৃত মানুষ কত নিরাপদ, কতটা সরল নির্লোভ। দেখ মানুষের জন্য মানুষই হলো সব চাইতে রড় আপদ এবং ভয়ের কারণ দেখ, রাতের ঢাকা শহরে তোমার জন্য শুধুমাত্র মানুষই ভয়ের কারণ।
আমার ভাবনায় হঠাৎই সেলিম ভাই আছড়ে পড়ে। আমি অনাক্ষরিক শব্দে কোঁকিয়ে উঠি। সে লতানো ভালবাসায় তার বুকে টেনে নেয়। তার ক্ষত থেকে তখনো রক্ত ঝরছেÑ রক্তের লাল বেদনা আমার বুকে লাগে। হৃদয়ে দারুণ কান্না তোলপাড় করে। বাতাসে কাশবন কেঁপে ওঠার মত থরথর কাঁপতে থাকি। বিরল একটি কষ্ট আমার বুক বেয়ে ওপরে ওঠেÑ আবার নিচে নামে। সেলিম ভাইকে হারানোর বেদনায় আমি যে কষ্ট পাই, সে বোধ কি তার আছে? মৃত মানুষের বোধ নিয়ে আরেকটি ভাবনায় পড়ে যাই।
মৃত সেলিম ভাই আবার কথা বলে, সে আবার তার পূর্বের প্রশ্নে ফিরে যায়।
আচ্ছা ভাবির খবর কি?
আমি বুঝেও না বোঝার ভান করি। বলি কার কথা?
কেন নিম্নী ভাবির কথা।
আমি আহত অনুরোধ করি। তার কথা এখন থাক। আপনি গুলিবিদ্ধÑ গুলি গেঁথে যাওয়া ক্ষত থেকে রক্ত ঝরছে।
সে শরীর নাচিয়ে জীবিত মানুষের মতো হেসে ওঠে। তার দায়িত্বহীন হাসি আমার ভাল লাগে না। তার হাসির ঠমকে কেমন প্রশান্তি এবং সুখের সরল রেখা বেশ স্পষ্ট। তবে কি আমার হিংসা ফুঁসে উঠছে। আমার কপাল কুঞ্চিত হয়। আমি তাকে হাসি থামাতে বলি। সে আরো উৎসাহী হাসির উচ্ছলতায় রাতকে ভয়ানক গভীর করে তোলে। আমার ভয়ের ক্রিয়া সচল হয় আবার স্থবির হয়। আমি তাকে করুন নিবেদনের মতো একটি খবর বলি।
জানেন আপনার মৃত্যু আপনার মা মেনে নিতে পারছে না।
মৃত্যু মেনে না নিতে পারা জীবিত মানুষের আল্লাহ প্রদত্ত দুর্বলতা। সেলিম ভাইয়ের এমন দার্শনিক উত্তরে আমার মনে হয় এ বিষয়ে আর কথা না বলাই শ্রেয়। এমন উত্তর না দিলে সাহানা আপার কথাও বলতাম, ভাইয়ের মৃত্যু তাকে কতটা আহত করেছে তা সে জানতে পারতো।
আমার দৃষ্টি আবার তার বুকের বাম পাশে গেঁথে যাওয়া ক্ষতটার কাছে আটকে যায়। সেখান থেকে রক্ত বেরুচ্ছে। আমি প্রভুর প্রতি অনুযোগে ঠোঁট ফোলাই। ভাল মন্দ সবার রক্তের রংই এক, এটা কি রকম? ধোকাবাজ স্বার্থপর মানুষ এবং ভাল মানুষের রক্তের রং আলাদা হওয়া উচিৎ ছিল।
আমি এবার সেলিম ভাইয়ের ঠোঁটের দিকে তাকাই। ঠোঁটের কোনায় রক্ত শুকিয়ে আছে। সেও আমার চোখের দিকেÑ হঠাৎই আমার বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে। ভয়ের একটি শীতল আমার মেরুদন্ড বেয়ে উপরে উঠতে চায়। আমি পাত্তা দেই না। মনে মনে একটি দার্শনিক ভঙ্গিমায় অহংকারী হয়ে উঠি। বলি, ভয় পাওয়া হলো জীবিত মানুষের দুর্বলতাÑ আমি দুর্বলতা ঝেড়ে ফেলি।
আমি মৃত সেলিম ভায়ের দিকে তাকিয়ে থাকি। আর ইচ্ছে সে সিমার কথা অকপটে বলুক। আমার ধারণা সে আজ সত্য কথা বলবে। মৃত মানুষের মিথ্যা বলে লাভ নেই। মৃতরা লোভ ও লাভের উর্ধ্বে। ভোগ ও স্বার্থের বাইরে।
জানো?
আমি সেলিম ভাইয়ের প্রশ্নে হচকিৎ হয়ে উঠি, কারণ আমি জানি না। জানি না বলেই হয়ত। তার দিকে সমগ্র একাগ্রতা ঢেলে তাকিয়ে থাকি। সেলিম ভাই আমার একাগ্রতায় সন্তুষ্ট। সে বেশ স্বাচ্ছন্দে তার কথা শুরু করে।
সে, মানে সিমা। আমাকে সেই দিন। সেই দিন মানে। আমি মারা যাবার পনেরো দিন আগে, আমাকে ফোন করে। ফোন করে আদেশের সুরে বলে। সেলিম তুমি এক্ষুনি আমাকে নিয়ে যাও। আমি মেঘ না চাইতে বৃষ্টি পেয়ে থমকে যাই। হঠাৎ করেই মনে হয়। দুটি সন্তান আছে সিমার …। ঐ দুটি সন্তানের কথা মনে করে নিজের দাওয়াকে বিসর্জন দিতে চাই। কিন্তু সরাসরি না করে দিলে সিমা কষ্ট পাবে। তাকে কষ্টও দিতে চাই না। তাই ইচ্ছেকে আড়াল করি। তাকে বুঝাতে চাই। বলি সিমা তুমি আরো একশো বার ভাবো।
আমি তাকে, তাকে মানে সিমাকে ভাবতে বলায় সে দারুণ রেগে যায়। উত্তেজনার ঝাঁঝ তার কণ্ঠের আওয়াজকে বারুদ করে তোলে। ও তুমি আসবে না?
আমি বললাম, না সিমা, সে কথা নয়। তোমার দুটি সন্তান
কেন এতোদিন কি জানতে, একটি সন্তানের কথা জানতে?
না সে কথা নয়।
তা হলে কি কথা? আমি তোমাকে এতো দিন বলেছি যে আমি কুমারী নিঃসন্তান
না আসলে সে কথা নয়।
তা হলে কি কথা ?
সিমা চিৎকার করে মোবাইলে গলা-ফাটায়। তার অধৈর্য্য ছটফাটানি আমাকে ভাবিয়ে তোলে।
আমি কোন পথে আগাবো ভেবে হয়রান হই। সিমা আমারে ধরে চিৎকার করে ভেঙে পড়ে এবং পাঁচতলা থেকে লাফিয়ে পড়বে বললে আমি সম্পূর্ণ জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়ি। আমি তাকে আশ্বস্ত করি ট্যাক্সিক্যাব নিয়ে এক্ষুনি আসছি বলে।
আমি তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে গভীর ছলনার পাশা খেলায় হেরে যাই। মায়ার জালে আটকে আমি বাঁচার জন্য যতই দাপাদাপি করি ততোই আরো ভয়ানক ভাবে ফেঁসে যাই।
সেলিম ভাই হঠাৎই থেমে যায়। সে আবারো আমার প্রসঙ্গে ফিরে আসতে চায়। আমার হঠাৎই তার প্রতি সন্দেহের একটি বীজ দ্রুত অঙ্কুরিত হয়ে পুস্পিত হওয়া শুরু করে। সেকি সিমার সাথে আমার স্ত্রী নিম্নীর উপসংহার টানতে চায়? আমার ভেতরে স্বার্থের একটি বিষঁ ফনা তোলেÑ আমি মনে মনে প্রবল প্রতিবাদ করি। আপনার সিমা এবং আমার নিম্নী এক জিনিস নয়।
সে, মানে সেলিম ভাই সত্যি সত্যিই আবার আমাকে প্রশ্ন করে। আচ্ছা নিমনী ভাবির কথা বলো।
আমি কি বলবো, কিছুই বুঝে ওঠতে পারিনা।
সেলিম ভাই স্বাভাবিক হাসির রেখা টেনে আমার স্মৃতির পুকুর হাতরে কিছু উদ্ধার করতে চায়। আবিস্কারের নেশা যেন তাকে পেয়ে বসেছে। সে রুমের ছাদ ভেদ করে আকাশের দিকে দৃষ্টি উড়িয়ে কথা বলে। অনন্ত কথা যেন তার বুকের খাঁচায়। অথচ তার বুকের বাম পাশে একটি ছিদ্রÑ বুলেটে গেথে যাওয়া চিহ্নটি গোলাকার। সেখান থেকে আবার রক্ত বেরুচ্ছে, লাল রক্ত। রাতের গভীরতা আরো ঝেকে বসেছে। রাতের শ্বাসপ্রয়াসের মিহি শব্দরাজী বেশ শোনা যায়।
সেলিম ভাই আবারো আমার প্রসঙ্গে আগ্রহী হয়। নিমমী এবং তুমি আমার ড্রইং-রুমে সারারাত জেগে কথা বললেÑ দুজনে মধ্যরাতে নামাজ পড়লে তোমাদের দু’জনার জুটি এতোটা প্রানবন্ত নির্লোভ বেগোনাহ লাগছিল যে আমার চোখে পানি চলে আসছিল এবং আমি দোয়া করছিলাম তোমরা বিবাহিত হও …।
আমি হঠাৎ যবাব দিই। আমি তো বিয়ে করেছি। সে ধ্যানির মতো উত্তর দেন। আমি জানি। কিন্তু…। আমি মাথা নিচু করি এবং প্রসঙ্গ বদলের রাস্তা বের করি, বলি ছি: সেলিম ভাই আপনার কাছে অবৈধ অশ্র পেল পুলিশ?
সে হো হো করে হেসে ওঠে বলে, তাই নাকি? অশ্র পাওয়া গেছে? আসলে চোখ বাধা থাকার কারণে আমি দেখতে পাইনি। আচ্ছা এক কাজ করো, পত্রিকা আনো আমি দেখি। দেখি আমার লাশের পাশে পরে থাকা অশ্রের ছবি।
দেখি কেমন মানিয়েছি, সব বস্তুরই একটা মানানসই বলে কথা আছে …। পুলিশের ক্রোশফায়ারে মৃত ব্যক্তির পাশে পরে থাকা অস্ত্র ও গুলির দিকে আমরা তাকিয়ে থাকি। পত্রিকার খবরও আমাদের দৃষ্টি কারে। হাত বাধা, চোখ বাধা অবস্থায় নাকি পালাতে গিয়ে …।
আমরা পত্রিকার খবর এবং পরে থাকা সেলিম ভাইয়ের লাশের দিকে এবং অস্ত্র ও গুলির দিকে বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি। আমাদের দু’জনের দৃষ্টিতে দু’রকম বিশ্বাস ফুটে উঠে। কারণ, সেলিম ভাই মৃত। তার বিশ্বাস এক রকম। এবং আমার বিশ্বাস অন্য রকম।
আমাদের বিশ্বাস এবং অবিশ্বাসের দন্দ্বে মধ্যরাতের গভীরতা এবং কালোর ঘনত্ব ফিকে হয়ে ওঠে ক্রমেই।
আমি সকাল হবার জন্য অপেক্ষা করি। আর মনের সংরক্ষিত কোঠড়ে আত্মীয়ের বিচ্ছিন্ন হবার বেদনা পুষে রাখি।
বিচ্ছিন্ন হবার মানবীক দূর্বলতা জীবিত মানুষের থাকতে হয়। আমি সূর্য ওঠার একটি অপরিচিত শব্দে বিছানা ছেড়ে জেগে ওঠি।

অক্টোবর 10, 2011

লিটলম্যাগ বন্ধ হয়— ‘ঢাকা এলে?’ ‘টাকা না এলে?’

মাহফুজ ফারুক

এক
বাংলাদেশ সংস্কৃতিকেন্দ্র আয়োজিত সাংস্কৃতিক সাংবাদিকতাবিষয়ক কর্মশালায় অংশগ্রহণের জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭ বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে হাজির হলাম রাজধানীর কল্যাণপুরস্থ প্রত্যাশা প্রাঙ্গণে।
শিল্পী মাসুদ রানার সাথে কুশল বিনিময় চলছে। এরই মাঝে কবি আফসার নিজাম এলেন। দীর্ঘদিন পর তার সাথে দেখা হলো। চোখে-মুখে ব্যস্ততার ছাপ। নিমন্ত্রণ জানালেন বিপরীত উচ্চারণের সাহিত্যসভায়।
সাহিত্যসভা চলছে প্রত্যাশা স্টুডিওতে। আফসার নিজাম ভাইয়ের সাথে হাঁটছি। একসময় পৌঁছে গেলাম। চলছে লেখাপাঠ পর্ব। ধবধবে সাদা হাস্যোজ্জ্বল চেহারার অধিকারী কবি আবিদ আজম কাগজ আর কলম এগিয়ে দিলেন লেখা নেয়ার জন্য।
তখনো পরিচয় হয়নি তার সাথে, কারো সাথে। আবিদ আজমের ঠোঁট কথা বলছে, ‘আপনিই মাহফুজ ফারুক?’ যেন কতদিনের চেনা! পরিচিত হলাম সবার সাথে। নওগাঁ থেকে এসেছি। ছড়া’র দ্বিতীয় রাজধানী বগুড়ার পার্শ্ববর্তী জেলা বলে কথা। আর যাই কোথায়? অন্তমিল, ছড়াড্ডা, চমক, চমচম, নকশীসহ ছড়াবিষয়ক লিটল ম্যাগাজিনসংক্রান্ত আলোচনা শুরু হলো; প্রসঙ্গ উত্তরাঞ্চল। অন্তমিল, ছড়াড্ডা এবং চমকের কয়েকটা কপি সাথে ছিলো। সেগুলো নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি অবস্থার সৃষ্টি। নতুন করে ভাবতে শুরু করলাম, কতটা বেশি ভালোবেসে ফেললে এমনটা হতে পারে? একপর্যায়ে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলেন রহমান তাওহীদ এবং তার অন্তমিল। বুকটা ভরে উঠলো গর্বে, প্রজাপতিমন পুব থেকে পশ্চিমে উড়ে গেলো।

দুই
২৩ অক্টোবর ২০০৭, রাত ৯টা। মোবাইল ফোনের রিংটোন বাজছে। স্ক্রিনে ভাসছে কবি মতিউর রহমান মল্লিক ভাইয়ের নাম। আনন্দ, আবেগ, উচ্ছ্বাস আর হালকা ভয় নিয়ে কল রিসিভ করলাম। কথা চললো প্রাণ খুলে, ভালোবাসা আর কাছাকাছির নিবিড় মমতা মিশিয়ে। মল্লিক ভাই ঢাকায় আসতে বললেন এক সপ্তাহর জন্য।
দিলাম দৌড়, পৌঁছে গেলাম ঢাকায়, প্রত্যাশা প্রাঙ্গণে। প্রত্যাশা প্রাঙ্গণ মানেই বিপরীত উচ্চারণ। আর বিপরীত উচ্চারণ মানে সারাদিন কাজের বোঝা কাঁধে নিয়ে ছুটে বেড়ানো ক’টি মুখ : কবি আবিদ আজম, কবি সাইফ মাহদী, কবি হাসনাইন ইকবাল…।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার আরেক নাম বিপরীতের সাহিত্যসভা। পূর্বের ন্যায় এবারো সাহিত্যসভায় যোগ দিয়েছি। তখনো সভা শুরু হয়নি। মল্লিক ভাইয়ের ডাক পড়েছে। হাসনাইন ইকবাল, সাইফ মাহদী এবং আমি এক দৌড়ে তার রুমে হাজির। আর যাই কোথায়? বিশাল দায়িত্ব চাপিয়ে দিলেন মল্লিক ভাই। সাহিত্যসভায় সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব। দায়িত্ব এড়ানোর বৃথা চেষ্টাও হলো। কিন্তু ফল হলো না। তাছাড়া মল্লিক ভাইয়ের আদেশ বলেও কথা। বেশ চিন্তিত মনে সাহিত্যসভায় গিয়ে বসলাম। একটু পর মল্লিক ভাই এলেন। উদ্বোধন ঘোষণা করলেন।
শুরু হলো সাহিত্যসভা। এগিয়ে চললো ধাপে ধাপে। ফাঁকে নাস্তাও চলছে। এবার সভাপতির পালা, আমার পালা। এ-পালা যে সে-পালা নয়, পর্ব। মানে কথা বলার পর্ব। তখনো জানি না আমি আসলে কী বলতে যাচ্ছি। তারপরও শুরু করলাম। যা কিছু বললাম তা কোনো সভাপতির বক্তব্য নয়। কেমন যেন রাজনৈতিক বক্তৃতার স্টাইলে সাহিত্যবিষয়ক বক্তৃতা চললো প্রাণ খুলে, মনের ঝাল ঝেড়েও। মুহুর্মুহু তালি পড়ছে।
কথা শেষ করে বসতে না বসতেই দেখছি গালিও পড়ছে। মানে এবার আবিদ আজম ভাই শুরু করেছেন। কোনো প্রকার পূর্ববিজ্ঞপ্তি ছাড়াই। ছাড় পেলেন না কবি আফসার নিজামও। আফসার নিজাম বনাম আবিদ আজম আউটগোয়িং এবং ইনকামিং ফ্রি টকঝাল-ঝালটক টুর্নামেন্ট। বলা যায় ঝালালাপ এবং টকালাপও। চললো কিছুক্ষণ। উপস্থাপক কোনো ঘোষণা দেয়ার আগেই আবিদ আজম এবার নিজেই উপস্থাপক সাজলেন। আবার সভাপতির নাম ঘোষণা হলো। পড়লাম এবার আরেক বিপাকে। আফসার নিজাম ভাইয়ের কথাকে পুঁজি করলাম।
কিন্তু নিজাম ভাইয়ের একই যুক্তি : লিটলম্যাগ বন্ধ হয় ঢাকা এলে। আর আমার কথা : ঢাকা নয়, বরং টাকা না এলে। একপর্যায়ে তিনি বলেও বসলেন, ‘সাজ্জাদ বিপ্লব ঢাকায় এসে স্বল্পদৈর্ঘ্য বের করেছেন মাত্র এক সংখ্যা—যেখানে বগুড়ায় তিনি এই সময়ের মধ্যে আরো বেশি সংখ্যা বের করতেন। মাহফুজ ফারুক ঢাকায় আসুক, দেখবে সেও বের করছে না।’
বুকটা আরেকবার গর্বে ভরে উঠলো। এই ভেবে যে, ‘লিটলম্যাগ করার জন্য ঢাকা নয়, বরং মফস্বল শহরগুলোই এগিয়ে আছে।’ ভাবলাম, ‘যদি তাই হয় তাহলে ঢাকায় আসার স্বপ্নকে মাটিচাপা দিলাম লিটল ম্যাগাজিনের বিনিময়ে।’

তিন
পরের সপ্তাহে আবার যোগ দিলাম। তবে আজ আর সভাপতি হয়ে নয়। কর্তৃপক্ষ হয়তো বুঝে ফেলেছেন, আমাকে দিয়ে আর যাই হোক, সভাপতিগিরি চলবে না। তাই এবার পরিবর্তন এলো। সভাপতির বদলে প্রধান আলোচক। ভাবলাম, সভাপতি না হই; কিন্তু যে-দায়িত্ব পেয়েছি তা তো সহকারীর নয়, প্রধানের। আমাকে আর পায় কে? নিজেকে নিজেই প্রধান ভাবতে শুরু করলাম। কাজেই পঠিত লেখার ওপর নিশ্চিন্ত মনে চালালাম আলোচনা-সমালোচনা। অবশ্য ভুলেই গিয়েছিলাম আমার পাশে আরো একজন প্রধান আছেন। প্রধান অতিথি। জানলে হয়তো সংযত হতাম। তাছাড়া কে আছেন তাও জানি না। শুধু জানি লম্বা-চওড়া সাইজের এক ভদ্রলোক।
উপস্থাপকের ঠোঁট জোড়া নড়ছে, ‘এপর্যায়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিশিষ্ট রম্যকার মোহাম্মদ লিয়াকত আলী।’ ঘোষণা শুনে আমার চক্ষু চড়কগাছ। আমি যেন আর আমি নেই। লজ্জা আর সংকোচে একদম জড়োসড়ো হবার উপক্রম।
শেষ হলো সাহিত্যসভা, আবার শুরুও হলো। তবে সাহিত্যসভা নয়, মোবাইলের রিংটোন। রিসিভ না করে যাই কোথায়? এ যে স্বয়ং গুরু কল করেছেন! মানে রহমান তাওহীদ। কথা হলো আহমাদ মোবাশ্বিরের সাথেও। বাদ যায়নি প্রতীক ওমরসহ সংগীতা ফারউকও। বিপরীতের সাহিত্যসভা ঢাকা থেকে সোজা চলে গেলো বগুড়া-নওগাঁ হয়ে গাইবান্ধায়। যারা সাহিত্য নিয়ে কাজ করেন, তাদের অন্দরমহলেও।

অক্টোবর 10, 2011

দিগন্ত দুই দূরের সুদৃশ্য প্রণয়

রহমতুল্লাহ খন্দকার

পরমানু প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র হন তিনি
ক্ষুদ্র হতে হতে এতটাই অস্পৃশ্য যে
অনায়সে ঢুকে পড়ে অন্দরে।

বহুবিধ আকাশ দীপ্ত করে অবভাস আমলকি বন
ছায়াহীনের মায়া, ছায়া ফেলে উড়ে যায় মেঘমায়া মনে
মন ছুঁয়ে যায়, মন ছুঁয়ে যায়, ছোঁয়া যায় কি তারে!
প্রথাগত ভালোবাসা গাঢ় হলে ফুলবনে মৌসুমী হাওয়া
ফুল ঝরে যায়, ঝরে যায় পিনদ্ধ পলস্তারা
জাদুঘর ঝরে গেলে অবশিষ্ট অবিদিত আমাকে
আবৃত করো।

আকাশ ছুঁয়ে রংধনু খেলে, কিসের বিরহ খেলো
দিগন্তের আবেশ ঢেলে দূরপাল্লায় ডাকো
দূরেই থাকো দূরের অভিকর্ষ গাঢ়, ভালোবাস যদি
যথাযথ যবীয়ান আইবুড়ো।

বিবস্ত্রবাতাস জানে জাহ্নবীর কানে কোন কথা হয়
অভূত বিস্ময় দিগন্ত দুই দূরের সুদৃশ্য প্রণয়!

অক্টোবর 10, 2011

দর্শন-২

নয়ন আহমেদ

দিয়েছি বন্ধ করে আর্তনাদের দোকান।
অন্তরে মাখো প্রিয়তম রোদ; নীরবতার পাউডার।
খোলো কমনীয় জানালা-দুয়ার।
পৃথিবী উঁকি দিচ্ছে আত্মার উঠানে।
মোড়া পেতে রাখো।
প্রবেশ করুক নন্দিত-মেহমান।

দৃষ্টিকে ধুয়ে নাও এই রঙমাখা ভোরে।
ভরপুর বাসনারা তোমাকে সাজাবে।
করো কুশল বিনিময়।
আত্মহত্যা করবে আর্তনাদ।

নিকট-আত্মীয় বানাও।
পৃথিবীতো মায়ের মতোই আপন।

অক্টোবর 10, 2011

একজন কৃষক

সৈয়দ সাইফুল্লাহ শিহাব

হাল টানতে এখন আর বলদের প্রয়োজন হয়না
তাই বলে কৃষকের জমিগুলো অনাবাদি থাকেনা
প্রযুক্তির যৈাবন উস্কে দেয় চাষার রক্তের তেজ
আঠার ছোঁয়া যুবকের প্রখর দৃস্টির মত
আমাদের গোলাঘরে নেমে আসে রোদ

তাহলে কি আমাদের ঘুম
লাঙ্গলের ফলার মত চষে বেড়ায় সূর্য

প্রচণ্ড গরমে ঘামানো কৃষকের শরীর
স্রষ্টার পরম আত্মাকে চাষ করে ক্ষেতের ভেতর

বলে রাখা ভালো
যে পুরুষ পিতা হতে পারেনা
আমি তাকে কৃষকের সমান গণ্য করিনা
কারণ একশো কোটি জন্মদাতার সমান একজন কৃষক

অক্টোবর 10, 2011

এক পুকুর জোসনা

মুর্শিদ-উল-আলম

প্রচন্ড দুপুর ভেঙ্গে
এক পুকুর জোসনা ডুবে থাকে জলে
এতে ভেসে চলে মাছ
পাশের সুপারি গাছ
ভেসে ভেসে মিশে যায়
জলে উড়ন্ত পাখির প্রতিবিম্বে
চোখ ফেলে
কেউ কেউ পোড়ে রোদের উত্তাপে
দ্যাখে প্রচন্ড দুপুরে পুকুরের জোসনা প্রণয়।

অক্টোবর 10, 2011

শীতের রাতে সিথানে রৌদ্র

মৃধা আলাউদ্দিন

রাত্তিরে পাখিটা
বীজের মতো বপন করলো রৌদ্রকে
যেন রৌদ্র আমাদের নাক-কান-গলা
অথবা রৌদ্র ছিলো আমাদের ঘর-গেরস্থালি-ঘর
প্রজ্ঞাময় বৃষ্টির ফোটার মতো দিন

রৌদ্রে ছেয়ে গেছে হাত
রৌদ্রে ছেয়ে গেছে রাত।

আজ, শীতের রাতে সিথানে রৌদ্র
গাঢ় বাতাসে তজবীদানার মতো সুখ…

পাখিটা বীজের মতো বপন করলো রৌদ্রকে।

অক্টোবর 10, 2011

ইন্দ্রজালের যাদু

আজাদ ওবায়দুল্লাহ
ধূসর স্মৃতির বুকে পোষা পায়রার খরতাল
অলৌকিক চিমনীর মত ছড়ায় ধোঁয়ার বেলুন
শহরের সড়কের খোপে নাচে প্রাচীন বেবুন
দাঁড়াও শরতের নাগর দাঁড়াও কাব্যের কাল

আকাল ছড়িয়ে গেলো, প্লাকার্ডের হরফের শোকে
মৃত নগরীর ইন্দ্রজাল নরকের মত ভাসে
তবুও ফুলের পাপড়িতে তরুন ধীবর হাসে
বিলয় হলেও জানি থাকবে এই চোখে

ভয় কি তবে হে বন্ধু ভয় নেই শাওনের পাখি
বৃষ্টির ফেনার মত বুনে যাও সোনার শহর
একদিন টানেলের নীচে জাগবে হীরের নহর
গোলাব ফুটবে শুধু। দ্যাখরে সে আকাশের নীল
অদৃশ্যের ঠিকানায় উড়ে যাবে শাদা গাঙচিল।

অক্টোবর 10, 2011

পানীয়নামা

আহমদ বাসির

ঐতো পানির পাখা নড়ে
অন্ধকারের ধড়ে
পিঁপড়েগুলি হেঁটে আসে
কড়কড় মড়মড়ে

পানীয়বাস্প হয়ে গেলে পাখা
পিঁপড়েগুলি পড়ে যাবে ঢাকা

পানি, তুমি
মেঘ হবে
বৃষ্টি হবে
সেই স্বপ্নে আমার হৃদয় আঁকা।

অক্টোবর 10, 2011

জোড়া কবিতা

সাইফ আলি

চাঁদটা এমন অন্ধকারেই থাকুক জ্বলে

চাঁদটা এমন অন্ধকারেই থাকুক জ্বলে
মধ্যরাতে হাতছানি দিক সব জানালায়
ঘুম জড়ানো চোখের পাতায় জাগুক নেশা
লাগুক তালা মধ্যরাতে ঘুমের পাড়ায়।

কোন ভাষাতে চাঁদের সাথে বলবো কথা
হাত ইশারায় জোছনা বলে নিরবতা
সেই তো ভালো নিরব থেকে মনের মিলন
চুপি চুপি বলবো কথা চোখ ইশারায়।

মনের খেঁয়া ভিড়বে গিয়ে চাঁদের দেশে
ভালবাসা সঙ্গে নিয়ে একটু হেসে
জোছনা মায়া সেই হাসিতে মুখ লুকিয়ে
থাকবে বসে ডাকবে শুধু ওড়না নাড়ায়।

চাঁদকে এমন অন্ধকারেই লাজুক লাগে
লজ্জারাঙা জোছনা ছড়ায় মধুর রাগে
সে রাগ আমি দুচোখ ভরে দেখবো বলে
চাঁদটা এমন অন্ধকারেই থাকুক জ্বলে।

স্বাধীনতা আমার

আমি আমার আকাশে দিয়েছি উড়াল পাখি
মুক্ত বাতাস পালকে দিয়েছে নাড়া
অবরোধহীন কণ্ঠে গেয়েছি গান
তোমরা দাওনি সাড়া।
তবে থাকো
আমি একলা আকাশে উড়ে
চলে যাবো বহু দূরে
যেখানে শুধুই আমি ও আমার
স্বাধীনতা খাপছাড়া…

অক্টোবর 10, 2011

ভাদর এবং তালের পিঠা

এ কে আজাদ

টুপ টুপা টুপ বৃষ্টি ছেড়ে
রোদের ঝিলিক হাসে
শাপলা শালুক দিঘীর জলে
আলতো করে ভাসে।

হঠাৎ দেখি গরম কেমন
ঘামছে মানুষ অতি
তালের গাছে ছুটছে কেবল
মৌমাছিদের গতি।

তাল পেকেছে তাল পেকেছে
তালে পিঠা বানাও –
খবর ছড়ায় গিন্নী মায়ে
জামাই মেয়ে আনাও।

অক্টোবর 10, 2011

শায়খ কাকা

আমিরুল মোমেনীন মানিক

অন্য দেশের পণ্য খেয়ে
জামাল পুরের শায়খ
চায় যে হতে জঙ্গীবাদের
সুপার ডুপার নায়ক
হাত মেলালো তাইতো শায়খ
বাংলা ভাইয়ের সাথে
দিনের বেলায় মোল্লা সাহেব
দালাল সে যে রাতে
ভিনদেশী সব এজেন্ট পাঠায়
লক্ষ কোটি টাকা
সীমান্তের ঐ খুঁটির সাথে
বান্ধা শায়খ কাকা।

অক্টোবর 10, 2011

দুর্দিন

হারুন আল রাশিদ

ওটা নয় আইসক্রীম
চকবার
সাবধান ভয় আছে
ঠকবার।
কোনো কাজে ভালো নয়
লক্ষন
দেখে শুনে কর তুই
ভক্ষন।
মোড়লেরা হলে সবে
গোমরা
এই দেশ চালাবে কি
ডোমরা?
আর কতো মিছেমিছি
ঝগড়া
জেগে উঠে দুই চোখ
রগড়া।

অক্টোবর 10, 2011

যুদ্ধ

সাইফ মাহদী

যুদ্ধ আহা যুদ্ধ
এই পৃথিবীর চলার গতি
দেয় যে করে রুদ্ধ।

অক্টোবর 10, 2011

গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান

বাউল আব্দুল করিম

গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান
মিলিয়া বাওলা গান আর মূর্শিদী গাইতাম
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম

বর্ষা যখন হইত গাজীর আইত
রঙে ঢঙে গাইতাম আনন্দ পাইতাম
বাওলা গান পল্লী গান আনন্দের তুফান
গাইয়া সারি গান নাও দৌড়াইতাম

হিন্দু বাড়িনত যাত্রা গান অইত
নিমন্ত্রন দিত তারা আমরা যাইতাম
কে হবে মেম্বার কে হবে গ্রাম সরকার
আমরা কি তার খবর রাখিতাম

বিবাদ ঘটিলে পঞ্চাইতের বলে
গরীব কাঙ্গালের বিচার পাইতাম
মানুষ ছিল সরল ছিল ধর্মবল
এখন সবাই চাই বড় লোক হইতাম

করি ভাবনা সেদিন আর পাবনা
ছিল বাসনা সুখী হইতাম
দিন হতে দিন আসে যে কঠিন
করিম দ্বীনহীন কোন পথে যাইতাম

অক্টোবর 10, 2011

তুমি কাঠাল পাতার রঙ দেখনি

গোলাম মোহাম্মদ

তুমি কাঠাল পাতার রঙ দেখনি
বুঝি হরিৎ বাঁশের বন দেখনি
পরতে পরতে তার ছড়িয়ে আছে
শিল্পের মনোময় হরিনী ।

বনে বনে নেচে যায় দক্ষিণা বাতাস
আকাশে উড়ায় পাখা মেঘেদের হাঁস
বৃষ্টিরা নেমে আসে আকাশ ঘিরে
বিজলীরা হেসে মরে তা কি দেখনি ।

রঙে রঙে ভরে ওঠে শিমুলের ডাল
সে কোন শিল্পী অপরূপ তুলি তার
জাল জাল নদী বয় স্রোতের টানে
বৃক্ষেরা ফুলে ফলে ভরে তখনি ।

অক্টোবর 10, 2011

ও নদীরে

আবুল কালাম আজাদ

ও নদীরে
আমার ঘরে লাফিয়ে পড়ে
তোর গায়েরই ঢেউ
সে ঢেউ দেখে আমি কাঁদি
কাঁদে নতুন বউ।।

কুঁড়ে ঘরে বসত করি
জাল ফেলি কিনারে
এ ছাড়া মোর জীবন বাচার
নাইরে উপায় নাইরে
তোর ঢেউয়ে ছিঁড়ল জালের গোছা
নাইরে দেখার কেউ।।

ঝড়ের বেগে আইলেরে ঢেউ
ভাঙ্গল কুঁড়ের ঘর
সোনার তরী ভাঙ্গল আমার
ভাঙ্গলরে অন্তর
একা একা ডুবে মরি
নেই বাচাবার কেউ।।

সেপ্টেম্বর 22, 2011

সাম্রাজ্যবাদ ও নজরুল ইসলাম


শাহাবুদ্দীন আহমদ

নজরুল ইসলামের গোটা সাহিত্য জীবনের শব-ব্যবচ্ছেদ করলে সম্ভবত: আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাব যে, তিনি পৃথিবী থেকে চিরদিনের জন্য সাম্রাজ্যবাদকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য পণ করে বা প্রতিজ্ঞা করে কলম ধরেছিলেন। এ বিষয়ে তাঁর বহু প্রচলিত দু’টি উক্তি প্রথমেই উদ্ধৃত করা যেতে পারে। ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় তিনি উপসংহারে উচ্চারণ করেছেন

মহা- বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না
বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হবো শান্ত।

আর ‘আমার কৈফিয়ৎ’ কবিতায় উপসংহারে বলেছেন

প্রার্থনা ক’রো যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস,
যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ!

বিস্তারিত পড়ুন

সেপ্টেম্বর 22, 2011

আমার প্রথম ইউরোপ সফর


মুহম্মদ মতিউর রহমান


এবারে আমাদের যাত্রা যুগোস্লাভিয়ার দিকে। দুপুর ১২.৪০ মিনিটে ভিলাক শহর থেকে যাত্রা শুরু হলো আমাদের। বিকাল ২:১০ মিনিটে আমরা অস্ট্রিয়ার সীমান্ত অতিক্রম করে যুগস্লোাভিয়ায় প্রবেশ করলাম। প্রবেশ-পথেই একটি লেকÑ নাম ‘খধশব ডঁৎঃব’. শান্ত-সমাহিত বিশাল সরোবর। চারদিকে সবুজ-শ্যামল বীথি। দেখে মনে হয়, পানিতে নেমে সাঁতার কাটি, গোসল করি। কিন্তু সবকিছু ইচ্ছা করলেই তো আর করা যায় না। আমরা মুসাফির, চলাই আমাদের কাজ। লেকের পাড় দিয়ে আমাদের গাড়ি ছুটে চলল সামনের দিকে। অল্প অল্প বাতাস বইছিল। ফুরফুরে বাতাসে আনন্দে মন ভরে উঠলো। বিকালের ম্লান রোদে, অনেকটা আলস্যে ভরা দেহ-মনে নানা কিছু ভাবনা এসে একত্রে মনের অলিন্দে ভীড় জমাতে লাগল। শরীরে পথ চলার ক্লান্তি, চোখে ঘুমঘুম ভাব। আধো ঘুম, আধো জাগ্রত অবস্থায় দেশে রেখে আসা পরিবার-পরিজনের কথা মনে পড়তেই সারাটা মন বিষণœতা আর দেহ ক্লান্তিতে ভরে উঠল।
বিকাল ২.৫৫ মিনিটে আমরা যুগোস্লাভিয়ার একটি সুন্দর ছোট্ট শহর ‘ব্লেড’ (ইষবফ)-এ গিয়ে উপনীত হলাম। শহরটি ছোট্ট হলেও অত্যন্ত মনোরম, ছবির মতো সুন্দর। আমাদের সহযাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন এখানে থেকে গেল। তারা এক সপ্তাহ এখানে ছুটির অবসর সময়গুলি কাটাবে। বাকি অধিকাংশ যাত্রীরা যাবে অন্য আরেকটি শহরে। আমিও তাদের সঙ্গী। ‘ব্লেড’ শহরে কিছুক্ষণ অবসর নিয়ে, চা-নাস্তা খেয়ে আমরা চারদিকে ঘুুরে কিছুটা পায়চারী করলাম। এখানে প্রকৃতির বিচিত্র সাজসজ্জা দেখে আমরা বিস্ময়-পুলকে অভিভূত হলাম। তারপর বিকাল ৪.২৮ মিনিটে আমরা রওয়ানা হলাম ‘ওপাতিজা’ (ঙঢ়ধঃরলধ) শহরের দিকে। বিকাল ৭.২৫ মিনিটে আমরা সেখানে গিয়ে পৌঁছলাম। সমুদ্র তীরবর্তী ‘ওপাতিজা’ শহর তখন সন্ধ্যার অন্ধকার কালো চাদরে মুখ ঢেকে যেন ঘুমের প্রতীক্ষায় ঢুলুঢুলু আঁখি নিয়ে তার নতুন মেহমানদেরকে সাদর-সম্ভাষণ জানালো। বিস্তারিত পড়ুন

নিব

:উৎসঙ্গ সৃজন চিন্তনের একটি শোভন ছড়াপত্র

বাঙলা

আফসার নিজাম সম্পাদিত : চিন্তাশীল পাঠকের মননশীল সৃজন